Tuesday, July 17, 2018

কক্সবাজার এলও অফিস দালাল ও সার্ভেয়ার সিন্ডিকেটে জিম্মি

স.ম.ইকবাল বাহার চৌধুরীঃ
টাকা ছাড়া টেবিলেতো দুরের কথা ডেস্কেও থাকেনা ফাইল। তদবিরবাজদের মাধ্যমে কমিশনের টাকা না পেলে ফাইলের গতি নাই। এমনই অবস্থা কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় (এলও অফিস)। আর এতে করে প্রতিনিয়ত হয়রানীর শিকার হচ্ছে সাধারন মানুষ এমনই অভিযোগ উঠেছে ভুক্তভোগিদর কাছ থেকে। জমিহারা মানুষগুলোকে দিনের পর দিন সার্ভেয়ার-কানুগোর দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়। কমিশনের টাকা দিতে না পারলে মাসের পর মাস পড়ে আছে আবেদন। বিধায় তদবিরবাজদের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে অসহায় আবেদনকারীদের। এতে করে এলও অফিসকেন্দ্রিক সিন্ডিকেটে পড়ে সর্বশান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তরের আগেই কমিশনের টাকা শতভাগ পরিশোধ করতে হয়। এভাবে অনিয়মের আখড়ায় পরিনত হয়েছে এলও অফিস। চেকের আশায় চোখ বুজে সহ্য করছে সব কিছু। কারন সরকারের অধিগ্রহনকৃত জমিতো আর যোদ্ধ করে ধরে রেখে দেওয়া যাবেনা। তাই নগদ যা পাই হাত পেতে নেই। দরকার হলে অর্ধেক পেলেও আমাদের লাভ এমনটি জানালেন আক্ষেপ করে এক ভুক্তভোগি।

তবে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফাইল সংশিøষ্ট এক কর্মকর্তা দুঃখ করে বলেন-সব কাজের জন্য ৮% টাকা বসদের টেবিলে টেবিলে পৌঁছিয়ে দিতে হয়। অন্যথায় কাজ হয়না। ফাইলে সই করেনা। বাধ্য হয়ে
ক্ষতিপূরণের আবেদনকারীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে নিতে হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ও ঈদগাও, নাপিতখালী কেন্দ্রিক রেল প্রকল্পের আওতায় পড়া জমির মালিকরা গ্রæপ-১ নামের সার্ভেয়ার এমদাদ-কুদ্দুস সিন্ডিকেটে জিম্মি হয়ে পড়েছে। ÿতিপূরণের আবেদন করতে গেলেই দালাল আর সার্ভেয়ার এমদাদ ও কুদ্দুসের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের কবলে পড়তে হচ্ছে। সদর এলাকার অধিগ্রহণের দায়িত্ব এই সিন্ডিকেটের। সিন্ডিকেটে রয়েছে কানুনগো বাতেন, সার্ভেয়ার এমদাদ, কুদ্দুস, আবু সাঈদ, সাইফুল ইসলাম ও বারিক। ১৫-২০% কমিশনের চুক্তি ছাড়া তারা কোন কাজে হাত দেয়না। সরকারের মহাপরিকল্পনা; জনগণের সেবা কোনটিই বিবেচ্য নয়, টাকাই তাদের মূখ্য। টাকা ছাড়া কিছুই চেনেন না। সরকারী চাকুরীর আড়ালে ‘টাকার পাহাড়’ গড়াই যেন এলও অফিসে কর্মরতদের মূলমন্ত্র।
টেকনাফের শামলাপুর জাহাজপুরা এলাকার ষাটোর্ধ বৃদ্ধ দুঃখ করে বলেন, মেরিন ড্রাইভের জন্য সরকার আমার জমি অধিগ্রহণ করেছে। ১ বছর আগে ÿতিপূরণের আবেদন করেছি। সার্ভেয়ার এমদাদ ও কুদ্দুস ৪ মাস আগে জমির ÿতিপূরণের এসেসমেন্ট করেছে। আজ-কাল করে এতোদিন ঘুরাঘুরির পরও ÿতিপূরণের চেক না দিয়ে ফাইল ফেরত দিয়েছে কেন জানিনা। জানতে চাইলে পরে যোগাযোগ করতে বলে। সার্ভেয়ার এমদাদ ও কুদ্দুস কক্সবাজারে দীর্ঘদিন চাকুরীর সুবাদে যেন খুঁটি গেড়েছে। অফিসে কাউকে পাত্তা দেয়না।
একই অভিযোগ ঈদগাঁও মৌজার আরেক আবেদনকারীর। তিনি বলেন, প্রতিদিন এলও অফিসে আসি। সার্ভেয়ারের কাছে ধর্ণা দিই। ফাইলের অগ্রগতি জানতে চাইলে পরে আসতে বলে তাড়িয়ে দেয়। কোন সদুত্তর মেলেনা। অধিগ্রহণ কর্মকর্তার সাথেও কথা বলার সুযোগ পাইনা।
আরো অভিযোগ ওঠেছে, প্রকৃত জায়গার মালিকদের টাকা না দিয়ে দালাল সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি করে রেখেছে অধিগ্রহণ শাখার চিহ্নিত সিন্ডিকেটটি। নির্দিষ্ট অংকের বিনিময়ে বিরোধীয় জমিতেও গোপনে চেক তুলে দিচ্ছে তারা। আদালতের নির্দেশ তোয়াক্কা করছেনা।
এ বিষয়ে অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মোঃ সাখাওয়াত হোসেন রুবেলের কাছে জানতে অফিসে গেলে ভেতরে বসে থাকা তদবিরবাজদের কারণে ঢুকা সম্ভব হয়নি। পরে মুঠোফোনে চেষ্টা করেও সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। আগামীতে পর্বে তার বক্তব্য সংযোজন করা হবে। 

No comments:

Post a Comment