চকরিয়া থানার এসআই'র বিরুদ্ধে আইজিপি বরাবরে অভিযোগ


সংবাদদাতা:
চকরিয়া থানার এসআই মোঃ এনামুল হকের বিরুদ্ধে মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী এক বৃদ্ধ। চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের বালুরচর গ্রামের বাসিন্দা মৃত আফোয়াজ উদ্দিনের পুত্র আলি আহমদ এ অভিযোগটি দায়ের করেন।
দায়েরকৃত অভিযোগে জানা যায় তার পুত্র মোঃ ইসাহাক (২৮)কে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে একলক্ষ বিশ হাজার টাকা আদায় করেছে চকরিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ এনামুল হক। ইসহাকের নামে থানা কোর্টে কোন মামলা-মোকাদ্দমা নেই। সাধারণ ব্যবসা বাণিজ্য করে সংসার চালায়।
গত ২০১৭ সালের নভেম্বরে তার শত্রুরা চক্রান্ত করে চট্টগ্রাম শহরে যাওয়ার পথে পাঁচশত ইয়াবা টেবলেট দিয়ে তাকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেয়। এনিয়ে আদালতে একটি মামলা হয় এবং পরে ওই মামলায় জামিনে ছিল তার পুত্র। ওই আটকের ইস্যু নিয়ে বৃদ্ধা আলি আহমদ পুলিশি হয়রানীর শিকার হয়েছে।
গত ২জুন ২০১৮ইং তারিখ রাত বারটার দিকে চকরিয়া থানার উপ-পরিদর্শক এনামুল হক ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের এক চকিদারকে সাথে নিয়ে একদল পুলিশ বালুরচর গ্রামে তার বাড়িতে যায়। এসময় ঘুম থেকে ডেকে পুত্র ইসহাককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় পাঁচ লক্ষ টাকা না দিলে পুত্রকে ক্রসফায়ার দেওয়া হবে বলে হুমকি দেয় উপ-পরিদর্শক এনামুল হক।
পরদিন স্বজনরা আটক ইসহাককে দেখতে চকরিয়া থানায় গেলে আসামি রাখার কক্ষসহ কোথাও তাকে পাওয়া যায়নি। ওইদিন দর কষাকষির পর এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা পুলিশ এনামুল হককে দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। চকরিয়া থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ এনামুল হক এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা নগদ বুঝে নিয়েও বৃদ্ধ আলি আহমদের পুত্রকে কথামত আর ছেড়ে দেয়নি।
পরে আটকের স্থান তার বাড়ি থেকে প্রায় ৫ কিঃমিঃ দুরে ডুলাহাজারা ব্রিজ থেকে ২৭ পিস ইয়াবা টেবলেটসহ ইসহাককে আটক করেছে উল্লেখ করে পুলিশ মিথ্যা ঘটনা সাজায়। এ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো ঘটনায় মামলা দিয়ে বৃদ্ধার পুত্র ইসহাককে জেলে পাঠানো হয়। প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে ওইদিন পুলিশের সাথে থাকা লোকজন ও ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকার সকলে অবগত রয়েছে।
তার দায়েরকৃত অভিযোগে ধারকর্জে যোগাড় করা মিথ্যা আশ্বাসে নেওয়া একলক্ষ বিশ হাজার টাকা ফিরিয়ে দিয়ে এ ঘটনার সত্যতা যাচাই পূর্বক চকরিয়া থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ এনামুল হকের বিরুদ্ধে বিহিত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান।
এব্যাপারে চকরিয়া থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মোঃ এনামুল হক বলেন, ইয়াবাসহ মোঃ ইসহাককে আটক করা হয়েছিল এবং এনিয়ে মামলা হয়েছিল। টাকা নেওয়ার অভিযোগ বিষয়ে জানালে তিনি বলেন সেটা তাদের (অভিযোগকারীর) ব্যপার। চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বকতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
Share on Google Plus

About Iqbal Bahar

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment