উখিয়ায় ‘রাজপ্রাসাদ’ ছেড়ে পালিয়েছে ইয়াবা ‘বাবা’ ও জনপ্রতিনিধিরা


উখিয়া প্রতিনিধিঃ                                                                                                   
কক্সবাজারের উখিয়ায় মরণ নেশা ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িয়ে রাজপ্রাসাদের মতো বাড়ী বানিয়েছে অনেকে। গত ১৬ মে থেকে দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এসব বাড়ী ছেড়ে পালিয়েছে এলাকার চিহ্নিত ইয়াবা ‘বাবা’ ও জনপ্রতিনিধিরা।
সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের লম্বাঘোনা গ্রামের মৃত ফকির আহম্মদের ছেলে মাহমুদুল করিম খোকা একজন মাইক্রোবাস চালক। সে চালক থেকে ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িয়ে কোটিপতি হয়ে ইয়াবার টাকায় তার নিজ গ্রামে নির্মান করেছে আলিশান বাড়ী। বালুখালী পূর্ব পাড়া গ্রামের কালু বলির ছেলে লুৎফর রহমান একজন চা, বিক্রেতা। সে ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িয়ে আজ কোটি টাকার মালিক বনে গিয়ে ইয়াবা টাকায়  নির্মান করেছে একটি বাড়ী। উখিয়ার জাদিমোরা গ্রামের আকবর হোসনের ছেলে কবির আহম্মদ একজন পান বিক্রেতা। সে ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িয়ে আজ শত কোটি টাকার মালিক বনে গিয়ে রাজাপালং মাদ্রাসার সামনে ইয়াবার টাকায় নির্মান করে যাচ্ছে একটি স্বর্ণকমল। উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শামশুল আলমের ছেলে রোহিঙ্গা জিয়াবুল বস্তিতে বসবাস করার পাশাপাশি ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িয়ে ইয়াবার কালো টাকার পাহাড় গড়ে তোলার পাশাপাশি কুতুপালং পূর্ব পাড়া এলাকায় সরকারি বন ভুমির জায়গার উপর নির্মান করেছে আলিশান বাড়ী। উখিয়ার রতœাপালং হারুন মার্কেট এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে রাসেল বেকার যুবক থেকে ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িয়ে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মান করেছে একটি বাড়ী। 
তবে  এসব বাড়ী এখন খালী পড়ে আছে, পালিয়ে বেড়াচ্ছে বাড়ীর মালিক ও মাদক ব্যবসায়ীরা। পুলিশি ও র‌্যাবের অভিযান এড়াতে বাড়ীতে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে ঢাকা, চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাস করছে তারা। ইয়াবার টাকায় বানানো এই রাজপ্রাসাদ পাহারা দিতে প্রতিটি বাড়ীতে তারা বসিয়েছে একাধিক সিসি ক্যামরা। আবার কেউবা বাড়ীতে রেখে গেছে গরীব কোন নিকট আতœীয়কে। রাজাপালং গ্রামের আব্দুস ছালাম বাংলাদেশের খবরকে জানান, ইয়াবা গডফাদার  কবির আহম্মদ সামন্য একজন পান বিক্রেতা সে অল্প দিনে কি ভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পদ ক্রয় করে এবং স্বর্ণকমল তৈরি করতে যাচ্ছে এটা স্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই না। ভালুকিয়া  গ্রামের রফিক বলেন, রাসেল একজন বেকার বখাটে ছেলে সে ৫ বছরের মাথায়  কিভাবে হঠাৎ ৫ কোটি টাকা ব্যায় বাড়ী নির্মান করল এটা ভাবনার বিষয় হিসাবে দাড়িয়েছে।
অপর দিকে ৫ নং পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৯টি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যদের  মধ্যে ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুল আবছার চৌধুরী, ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বখতিয়ার আহম্মদ ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক হয়ে জেল হাজতে রয়েছে, ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোজাফ্ফর আহম্মদ ছাড়া ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জয়নাল মেম্বার, ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুল আমিন মেম্বার, ৬ নং ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য তোফাইল আহম্মদ, ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুল হক, ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামাল হোসেন ও ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোলতান মেম্বারসহ জনপ্রতিনিধিরা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার দায়ে  গ্রেপ্তার এড়াতে  পলাতক রয়েছে বলে  স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন।
এব্যাপারে উখিয়া থানার ওসি মোঃ আবুল খায়ের বলেন, মাদক ঠেকাতে ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Share on Google Plus

About Iqbal Bahar

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment