কক্সবাজার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইনসপেক্টর, অঘোষিত মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রক


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
জেলা জুড়ে অঘোষিত মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে চলছে স্বয়ং মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার ইশারায়। একের পর এক ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ীদের আটক বানিজ্য করে প্রতি মাসে কোটি টাকা আয় করছে বলে অভিযোগ উঠছে ঐ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। প্রাপ্ত তথ্য মতে জানা যায়, জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইনসপেক্টর ধনঞ্জয় চন্দ্র দেব নাথ নামের এই কর্মকর্তাই মূলত মাসিক মাসোহারা নিয়ে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন জেলা জুড়ে। প্রতি মাসে তার চাহিদা মতো টাকা না দিলে শুরু হয় ভ্রাম্যমান আদালত চালিয়ে আটক বানিজ্য ও জরিমানা।
নাম প্রকাশে অনিশ্চুক শহরের বাজারঘাটা এলাকার চোলায় মদ ব্যবসায়ী বলেন, ব্যবসা কর বা না কর প্রতি মাসে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চাহিদা মতো টাকা পৌছে দিয়ে আসতে হয়,না হলে নানা হয়রানির শিকার করে ইনসপেক্টর ধনঞ্জ চন্দ্র নাথ।
একই বিষয়ে শহরের ঘোনাপাড়া এলাকার নাজেম উদ্দিন নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, ঘোনাপাড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় মাঝে মধ্যে জেলা মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের উদ্দ্যেগে মাদকপল্লী গুলোতে ভ্রাম্যমান আদালতে অভিযান করতে দেখা যায়,তবে দুঃখের বিষয় যাদের আটক করা হয় তাদের হাতে সর্ব্বোচ ৪০/৫০টি ইয়াবা অথবা ১ কেজি -দেড় কেজি গাঁজা নিয়ে আটক করা হয়।
মূলত মাদক স¤্রাটদের সাথে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে এর একটি অলিখিত চুক্তি রয়েছে যার কারনে মাদক স¤্রাটরা পার পেয়ে যায় প্রতিবারই। এদিকে গতকাল  জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আবারও মোটা অংকের টাকা বিনিময়ে রাতের আধারে হ্নীলার দুই র্শীষ মাদক ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর রাত ১১.৩০ মিনিটের সময় জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অফিসের ইনচার্জ পরিদর্শক ধনঞ্জয় চন্দ্র দেব নাথ ও কনেস্টেবল আব্দুল্লাহ আল মামুন শহরের কলাতলী শ্যামলী কাউন্টার থেকে টেকনাফ হ্নীলা এলাকার ফাতেমা বেগম, হ্নীলা পশ্চিম সিকদার পাড়া এলাকার মৃত ফজল করিমের মেয়ে আনোয়ারা (৩৯) ইয়াবাসহ তিন ব্যক্তিকে আটক করে। গোপনে নারী ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটকের পর তাদেরকে শহরের বেসরকারী ক্লিনিক শেভরন এ নিয়ে আসে। এ সময় আটককৃত তিন জনের দুই জনকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ করেন স্বয়ং ইয়াবাসহ আটক নারী মাদক ব্যবসায়ী টেকনাফ হ্নীলা পশ্চিম সিকদার পাড়া এলাকার মৃত ফজল করিমের মেয়ে আনোয়ারা(৩৯) নামের উক্ত মাদক ব্যবসায়ী। এদিকে ইয়াবাসহ আটক নারী আটক হওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমে আসলে ঘটনাস্থলে ছুড়ে গেলে কয়েকজন সাংবাদিক বিষয়টি জানতে চাইলে ইনসপেক্টর ধনঞ্জয় জানান, ফাতেমাকে ও কোন অপরাধ নেই বলে ছেড়ে দেয় এবং আনোয়ারাকে কক্সবাজার সদর সরকারী হাসপাতালে নিয়ে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান ছেড়ে দেওয়ার আগে তাদের সাথে রফাদফা হয়ে যায়। কলাতলী এলাকার ব্যাবসায়ী আব্দু শুকুর জানান, উক্ত ধনঞ্জয় প্রতি মাসে মাদক ব্যাবসায়ীদের নিকট থেকে মাসোহারা আদায় করে আর কেউ মাসোহারা দিতে দেরী হলে তাকে আটক করে কয়েকটা ইয়াবা দিয়ে থানায় প্রেরন করেন। এ নিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা মাসোহারা আদায় করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এ প্রতিবেদক সংবাদ পেয়ে গতকাল সকাল ১০টার সময় সরকারী সদর হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা যায় হাসপাতালের বেডে চিকিৎসাধীন আনোয়ারা। সাথে থাকা কনেস্টেবল আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন , আটককৃত ভিকটিম আনোয়ারার পেট থেকে এ পর্যন্ত ৮টি ইয়াবার পুটলা বের হয়েছে , আরো আনুমানিক ১৫ থেকে ২০টি পুটলা থাকতে পারে। এ নিয়ে ভিকটিম আনোয়ারার সাথে কথা হলে , সে বলে, তার সাথে যাদের আটক করা হয়েছিলো এবং ছেড়ে দিয়েছে মুলতা তারাই তাকে এগুলো বহন করার জন্য দিয়েছে।
এ সময় হাসপাতালে উপস্থিত লোকমান নামক এক রোগীর অভিভাবক সহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, ভিকটিম যেখানে ঐ ইয়াবাগুলো ছেড়ে দেওয়া মহিলা ও পুরুষটির বলে স্বীকার করেন, সেখানে পুলিশ কি ভাবে এদের ছেড়ে দিল ? নিশ্চই এদের ছেড়ে দেওয়ার পিছনে রহস্য থাকতে পারে।
এ বিষয়ে ইনসপেক্টর ধনঞ্জয় দেব নাথের কাছ থেকে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে, তিনি এসব সত্য নয় বলে জানান। আর নারী অপরাধী আটকের জন্য নারী পুলিশ না নেয়া এবং সরকারী হাসপাতালে না নিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে কেন নিলেন জানতে চাইলে ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের ডিজি মোঃ জামাল উদ্দিন আহমদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন বিষয়টি দুঃখজনক খোঁজ নিয়ে অভিযুক্তদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share on Google Plus

About Iqbal Bahar

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment