আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নয়ন করে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের উন্নয়নের জন্য, আওয়ামী লীগের নেয়া কর্ম-পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হলে আমাদের আরো এক টার্ম ক্ষমতায় আসা দরকার। ভবিষ্যতের উন্নতির জন্য অতীত থেকে শিক্ষা নিতে হয়। নয়তো প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। গতকাল গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্যদের সভার শুরুতে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে সাংগঠনিক কার্যক্রম, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় বলে বৈঠক সূত্র জানিয়েছে। বৈঠকে সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় থেকে ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও এর আগে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী আওয়ামী লীগ উদযাপন করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের লক্ষ্য, উন্নয়ন-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। এর বাইরে যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা লুটের রাজত্ব কায়েম করেছে। কাজেই দেশের মানুষকেই চিন্তা করতে হবে, তারা কী করবেন? দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে সচেতনতা  তৈরিতে কাজ করতে হবে।  বিএনপি দেশ শাসন করতে নয়,  ভোগ করতে, লুটপাট করতে ক্ষমতায় আসে এটাও জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নয়ন করে, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে; এটা প্রমাণিত। নির্বাচন এলে বিএনপি বিভিন্ন রকম টালবাহানা শুরু করে। এসবও জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে। নির্বাচনে জনগণ ভোট দেবে। আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশি তাকে দেবো- এই স্লোগানও কিন্তু আমরাই প্রণয়ন করেছি। এছাড়া ভোট জনগণের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার। জনগণ যাকে ভোট দেবে, তারাই ক্ষমতায় আসবে বলে আমরা মনে করি। আমাদের সরকার হাওয়া ভবন খুলে খাওয়া ভবন তৈরি করেনি।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, আমরা ইশতেহার হাতে নিয়ে বাজেট প্রণয়ন করি। এ বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারলে পরবর্তী অর্থবছরে আরো বড় আকারে বাজেট দেয়া হবে। তিনি বলেন, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আওয়ামী লীগ উদযাপন করবে, এ লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করি। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে পালন করবে, আমি এটা চাই। তিনি বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় ছিল বলে উন্নয়নের সুফল জনগণের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে পেরেছি। সরকারের ধারাবাহিকতা না থাকলে এটা সম্ভব হতো না। ২০১৪ সালের নির্বাচনের প্রতি ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনী আইনে আছে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়া যায়। এই আইন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও আছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপরে যে অত্যাচার-নির্যাতন হয়েছে, তার তথ্য সংগ্রহ করা ও এসব তথ্য জনগণের কাছে তুলে ধরার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এমন কোনো জেলা নেই, যেখানে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্য অত্যাচার-নির্যাতন করে নাই বিএনপি। তাদের অন্যায়-অত্যাচার-জুলুম ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এসব অত্যাচার-নির্যাতন ভুলে গেলে চলবে না। জনগণের কাছে এসব বার বার তুলে ধরতে হবে। তারা যে পরিমাণ অত্যাচার করেছে আমরা ক্ষমতায় এসে তার কিছুই তো করলাম না। বৈঠকে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
Share on Google Plus

About বাংলা খবর

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment