চকরিয়ার বদরখালীতে পাহাড়ী ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চিংড়ি প্রকল্প ও ঘরবাড়ীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

আল জাবের, মাতামুহুরী প্রতিনিধিঃ টানা বর্ষনে পাহাড়ী ঢলে চকরিয়ার বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির আওতাধীন চিংড়ি প্রকল্প সমুহে পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। গত ৫ জুলাই বদরখালীতে বন্যার পানি আসতে শুরু হলে ইউনিয়নের পঞ্চাশ হাজার মানুষ হত বিহ্বল হয়ে পড়ে। গত ৫ জুলাই রাতে বদরখালীর প্রায় প্রতিটি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে যায় , সাথে সমিতির অধীনে পনেরটি চিংড়ি প্রকল্পও পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে ইউনিয়নের ঘরবাড়ী ,ফসল ও চিংড়ি ঘের সমুহের প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে বলে জানান ২নং ব্লক বড় লবণ মাঠ চিংড়ী প্রকল্প ও মুরখালী চিংড়ী প্রকল্পের ইজারাধার মাহামুদুল হক । তিনি আরো জানান, এবছর ইউনিয়নের ২নং ব্লক বড় লবণ মাঠ চিংড়ী প্রকল্প সমিতি থেকে ইজারা নিয়ে চিংড়ি চাষ করে আসছিলো। কিন্তু বন্যায় তার চাষের পোনা সহ ঘেরের কাটিগোধা মিলে তার প্রায় ষাট লক্ষাধিক টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে মুরখালী প্রকল্পের ইজারাধার আব্দুচ সালাম জানান , পাহাড়ী ঢল ও বন্যার পানিতে তাদের প্রকল্পের বিশ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়। তারা উভয়েই উক্ত প্রকল্প গুলো ২০১৬-২০১৮ সালের জন্য দুটি প্রকল্প ২ নং ব্লক বড় মাট চিংড়ি প্রকল্প এক কোটি টাকা ও মুরখালী চিংড়ি প্রকল্প উনত্রিশ লক্ষ টাকা দিয়ে বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতি থেকে ইজারা নেওয়া হয়েছে। ইজারা নেওয়ার পর দু’টি প্রকল্পেই প্রায় এককোটি টাকার চিংড়ি পোনা ছাড়া হয়।  কিন্তু বন্যা ও পাহাড়ী ঢলে তাদের সব টাকা মাটি হয়ে গেল। তারা এখন নিরোপায় বলে জানান সাংবাদিকদের। অন্য দিকে বদরখালী সমিতির অধিনে ৩নং ব্লক বড় মাট চিংড়ি প্রকল্পসহ আরো ১৩ টি চিংড়ি প্রকল্পের প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে বলে জানান সমিতির সভাপতি নুরুল আলম সিকদার। উল্লেখ্য যে, এলাকাবাসী জানান, মাতামুহুরী নদীর সব পানি দরবেশকাটা রক্ষা বাঁধ (কাদিজ্জারমার গোদা) ভেঙ্গে এখন বদরখালীতে উপচে পড়েছে। বদরখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক জসিম উদ্দিন টিটু বলেন, বদরখালী চকরিয়ার একেবারে সর্বশেষ ও উপকুলীয় ইউনিয়ন হওয়াতে চকরিয়া বন্যা ও পাহাড়ী ঢলের সব পানি বদরখালী প্লাবিত হয়ে বদরখালীর ছয় হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এখন জনগনের কষ্টের সীমা নেই। উপকুলীয় অঞ্চল বদরখালীর মানুষ মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছে। বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাইরুল বশর বলেন, দরবেশকাটা ইলিশিয়ার প্রধান সড়ক নিচু হওয়াতে এবং ঢেমুশিয়ার জলমহালের স্লুইচগেইট ফেনা ধারা বন্ধ থাকায় বদরখালীতে পানি ঢুকেছে। স্লুইচ গেইটের ফেনা ও দরজা চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও মহোদয়ের সহযোগিতায় স্কেলেভেটর দিয়ে ভেঙ্গে না দিলে বদরখালীর অবস্থা আরো করুন হতো। এখনো চিংড়ি প্রজেক্ট সহ ঘরবাড়ী ও ফসলের ক্ষতি কোটি কোটি টাকার। যা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। সচেতন মহল ও এলাকাবাসী বদরখালীকে রক্ষার জন্য টেকসই দরবেশকাটার রক্ষা বাঁধ নির্মান, নদী ড্রেজিং, উচু করে রাস্তা নির্মান ও দরবেশকাটা জলমহাল উম্মোক্ত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানান।
Share on Google Plus

About Iqbal Bahar

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment