ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠকে বসছে বাংলাদেশ

ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় বৈঠকে বসছে বাংলাদেশ। আগামী নভেম্বরে ঢাকায় হবে এ বৈঠক। গত মে মাসে টিকফা’র আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে ঢাকার প্রথম বৈঠক হয়েছিল। এবারের বৈঠকটি হবে দ্বিপক্ষীয় পার্টনারশিপ চুক্তির অধীনে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, ঢাকা প্রস্তাবিত বৈঠকের বিষয়ে মার্কিনিদের তরফে অনাপত্তি মিলেছে। এটি হবে ঢাকা ও ওয়াশিংটন ৬ষ্ঠ অংশীদারি সংলাপ। ওই বৈঠক প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত সেগুনবাগিচার এক কর্মকর্তা বলেন, পার্টনারশিপ ডায়ালগ বা অংশীদারিত্ব সংলাপের আওতায় ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঢাকার বৈঠকটি হবে দু’দিনের। এতে নেতৃত্ব দিতে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের রাজনীতি বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি থমাস এ শ্যানন বাংলাদেশ সফর করবেন। স্টেট ডিপার্টমেন্টের ফোর্থ র‌্যাংকিং ওই কর্মকর্তার সঙ্গে দেশটির বিভিন্ন ব্যুরো ও দপ্তরের কর্মকর্তা এবং ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের পদস্থ কূটনীতিকরাও অংশ নেবেন। সেখানে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক। তার সঙ্গে থাকবেন সরকারের অর্থ, স্বরাষ্ট্র, বাণিজ্য, আইন, দুর্যোগ মন্ত্রণালয় এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ও বিনিয়োগ বোর্ডের প্রতিনিধিরা। গত বছর জুনে ওয়াশিংটনে সর্বশেষ পার্টনারশিপ ডায়ালগটি হয়েছিল। ওবামা প্রশাসনের আমলে মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব নেয়া পেশাদার কূটনীতিক থমাস এ শ্যানন সেই আলোচনায় দেশটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সেখানে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতা ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করেন সঙ্গতকারণেই অতীতের ধারাবাহিকতায় এবারের সংলাপে দুই দেশের অংশীদারিত্বকে আরো সুসংহত এবং শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হবে। এ ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে যেসব বিষয়ে মতভিন্নতা রয়েছে তা দূরে ঠেলে আগামী সম্পর্ক কিভাবে আরো সুদৃঢ় করা যায় তা নিয়ে কথা হবে। যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব নিয়ে গর্বিত। বিগত সংলাপে দেশটির তরফে এমনটি বলা হয়েছে উল্লেখ করে এক কর্মকর্তা বলেন, সেখানে অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য, উচ্চশিক্ষা, কৃষি সহযোগিতা, ব্লু ইকোনমি, শান্তিরক্ষা, সন্ত্রাসবাদ দমন ও সহিংস উগ্রবাদ, আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ৩ পর্বের ওই আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব প্লিনারি সেশনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বহুত্ববাদকে ধারণ করে ২০২১ সাল নাগাদ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের রূপকল্প ও কৌশলের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছিল। এবার আরো বিস্তৃতভাবে সেটি তুলে ধরার প্রস্তুতি চলছে। অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট সব বিষয়েই কম বেশি আলোচনা হবে শহীদুল ও শ্যাননের নেতৃত্বাধীন ঢাকার সংলাপে। তবে সেখানে নিরাপত্তার বিষয়টি প্রাধান্য পাবে। বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রপন্থার সম্ভাব্য উত্থান চেষ্টায় গত বছর ঢাকাকে যেভাবে টার্গেট করা হয়েছিল, চলতি বছরজুড়ে সরকারের উচ্চমাত্রার সতর্কতায় উগ্রপন্থিরা প্রায় কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এ ক্ষেত্রে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নানামুখী উদ্যোগ এবং দেশবাসীর সচেতনতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনের দৃষ্টি আকৃষ্ট করেছে। উগ্রপন্থা দমনে এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রসহ গোটা দুনিয়া বাংলাদেশের পাশে ছিল। ট্রাম্প প্রশাসন তথা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে এ নিয়ে আগামীর সহযোগিতার বিষয়টি আরো বিস্তৃত আলোচনা হবে আশা করে ঢাকার ওই কর্মকর্তা বলেন, বিশ্বব্যাপী উগ্রপন্থিদের হুমকি রয়েছে, বাংলাদেশ তার ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু এখানে দেশি-বিদেশিদের নিরাপত্তায় সরকারের তরফে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে সেই বার্তাই ওয়াশিংটনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর প্রতি স্পষ্ট করতে চায় ঢাকা। গত বছর ঢাকায় নিজ বাসায় বন্ধুসহ নির্মমভাবে খুন হন মার্কিন মিশনের কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নান। এ ঘটনার পর তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে যে কোনো ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তার তরফে ‘সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও সমন্বিত প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় জরুরি ঢাকা সফর করে স্টেট ডিপার্টমেন্টের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারিসহ দেশটির অন্তত ২০ জন কর্মকর্তা এবং ১৫ জন বিশেষজ্ঞ। তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ে সিরিজ বৈঠক করেছিলেন। ওই সব বৈঠকগুলোতে অংশ নেয়া এক কর্মকর্তা সমপ্রতি মানবজমিনকে বলেন, জুলহাজ মান্নানের খুনের ঘটনা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে সংলাপে কথা হতে পারে। এ নিয়ে ঢাকার তরফে ওয়াশিংটনকে পুরো পরিস্থিতি ব্রিফ করা হতে পারে। নিরাপত্তার প্রশ্নে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে সরকারি পরিকল্পনাও সেখানে তুলে ধরা হতে পারে। সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রপন্থা মোকাবিলায় সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বিষয়টিও পুনর্ব্যক্ত করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারের সুবিধা বর্ধিতকরণ এবং বাংলাদেশে  দেশটির আরো বেশি বিনিয়োগসহ সার্বিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে তাগিদ থাকবে ঢাকার।
Share on Google Plus

About বাংলা খবর

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment