লন্ডনে বহুতল ভবনে আগুন, নিহত ১২ by সোলায়মান তুষার

লন্ডনে বহুতল একটি ভবনে ভয়াবহ আগুনে কমপক্ষে ১২ জনের প্রাণহানি হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আহত শতাধিক মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গতকাল স্থানীয় সময় রাত একটার দিকে পশ্চিম লন্ডনের লাটিমার রোড এলাকায় অবস্থিত ২৪ তলার গ্রিনফেল টাওয়ারে ভয়াবহ আগুন লাগে। মেট্রোপলিটন পুলিশ বলেছে, মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। ভবনটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েক শ’ অগ্নিনির্বাপক সেখানে ছুটে যান। আগুন নেভানোর প্রচেষ্টার পাশাপাশি তারা আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার তৎপরতা চালান। একটার দিকে আগুন লাগার পর দ্রুতই তা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার ছয় ঘণ্টা পরও আগুন জ্বলছিল। পুরো লন্ডনজুড়ে দেখা যায় ঘন কালোধোঁয়া। লন্ডন ফায়ার কমিশনার ডেনি কটন বলেন, ‘অগ্নিনির্বাপক কর্মী হিসেবে আমার ২৯ বছরের ক্যারিয়ারে এতো বড় আগুন প্রত্যক্ষ করি নি।’
আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের পাশাপাশি এগিয়ে আসে সাধারণ মানুষও। আহত শতাধিক মানুষকে ৫টি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আগুনের ভয়াবহতা বুঝতে পেরে এক নারী তার সন্তানকে বাঁচাতে কোনো উপায় না পেয়ে ১০ম তলা থেকে জানালা দিয়ে তার আদরের শিশু সন্তানকে নিচে অপেক্ষমাণ মানুষের দিকে নিক্ষেপ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে শিশুটিকে ধরে ফেলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন সামিরা লামরানি বলেন, একজন মহিলা ৯ম বা ১০ম তলা থেকে তার শিশুকে নিচে নিক্ষেপ করেন- যেখানে সাধারণ মানুষ অপেক্ষা করছিল। তার আগে ওই নারী তার শিশুটিকে বাঁচানোর জন্য ‘আমার সন্তান, আমার সন্তান, তাকে বাঁচাতে হবে’ বলে  চিৎকার করছিলো। ওই নারী তার শিশুকে নিক্ষেপের আগে জানালা দিয়ে নিচের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নেন। সাধারণ মানুষ এসময় নিচ থেকে প্রস্তুত ছিল। সামিরা লামরানি বলেন,  সহায়তাকারীদের একজন প্রায় উড়ে গিয়ে শিশুটিকে ধরে ফেলেন। গভীর রাতে আগুন লাগায় অসংখ্য মানুষ ভবনটিতে আটকে পড়ে। ভবনটিতে অনেক মুসলিম পরিবারও ছিল। তারা সেহরি খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। একজন ট্যাক্সিচালক বলেন, পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। আটকে পড়া মানুষ জানালা দিয়ে আর্তনাদ করছিলো তাদের বাঁচানোর জন্য। ভবনটিতে ভয়াবহ আগুন লাগলেও সেখানকার বাসিন্দারা ফায়ার অ্যালার্ম শুনতে পাননি বলে দাবি করেছেন অনেকে। তারা বাইরে অপেক্ষমাণ মানুষের চিৎকারের শব্দ শুনে জানালার কাছে গিয়ে বুঝতে পারেন ভবনটিতে আগুন ধরেছে। তবে আগুনের ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে, ধোঁয়ার কারণে ভেতরের সবকিছু অন্ধকার হয়ে যায়। মানুষ বের হওয়ার প্রবেশ পথ খুঁজে পায়নি। এসময় আটকে পড়া মানুষ টর্চ লাইট বা মোবাইলের সহায়তায় নিচে নেমে আসেন। ভবনটিতে আটকে পড়াদের একজন পল মুনাকর। তিনি বলেন, ভবনে যে আগুন লেগেছে সেটা কিন্তু তিনি ফায়ার অ্যালার্মের মাধ্যমে বুঝেননি। রাস্তায় থাকা মানুষেরা চিৎকার করে বলছিল ‘ঝাঁপ দিও না, ঝাঁপ দিও না’ তখন তিনি বুঝতে পারেন যে, ভবনে আগুন লেগেছে। আগুনের তীব্রতা এতোটাই ছিল যে, তা কয়েক মাইল দূর থেকেও স্পষ্ট দেখা যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ভবনটিতে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। প্রায় দুইশ’ ফায়ার সার্ভিসের কর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ভবনে বহু মানুষ আটকা পড়ে আছে। লন্ডন ফায়ার ব্রিগেডের এসিস্ট্যান্ট কমিশনার ডেন ডেলি বলছেন, পরিস্থিতি ভয়াবহ। এমন জটিল পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করছেন দমকলকর্মীরা। অনেক বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এটি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা আমাদের সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি। এদিকে লন্ডনের মেয়র সাদিক খান এটাকে অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি মানুষকে নিরাপদে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছেন। আগুনের এই ঘটনার পর লন্ডন পাতাল রেলের হ্যামার স্মিথ এবং সিটি অ্যান্ড সার্কেল লাইন বন্ধ করে দেয়া হয়।
Share on Google Plus

About বাংলা খবর

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment