কান্না থামেনি লন্ডনে

কান্না থামেনি লন্ডনে। গ্রিনফেল টাওয়ারে আগুনে নিহতদের স্বজনদের হৃদয়ে দগদগে বেদনার ঘা। তাদের সঙ্গে সহমর্মিতা জানিয়েছেন আপামর জনতা। তারা বৃটেনের বিভিন্ন স্থানে শোককে পুঁজি করে থেকে প্রতিবাদে নেমেছেন। সরাসরি পদত্যাগ দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র। কেনসিংটনে সেইন্ট ক্লিমেন্টস চার্চে যোগ দেয়ার পর তিনি বিক্ষোভকারীদের তোপের মুখে পড়েন। এ সময় বেশ কিছু পুলিশ সদস্য প্রধানমন্ত্রীকে নিরাপত্তা দেন। ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তির ছবি প্রকাশিত হয়েছে গণমাধ্যমে। এক পর্যায়ে বেশ কিছু মানুষ টাউন হল ঘেরাও করে। এ সময় তারা ‘কাপুরুষ’ ‘খুনী’ বলে চিৎকার করতে থাকে। শুক্রবার এমন বিক্ষোভে উত্তেজনা দেখা দেয় টাউন হল, ডাউনিং স্ট্রিট, অক্সফোর্ড সার্কাস ও গ্রিনফেল টাওয়ার এলাকায়। প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নগদ ৫০ লাখ পাউন্ড সহ বিভিন্ন রকম সাহায্য সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এ খবর দিয়ে অনলাইন ডেইলি মেইল জানায়, শুক্রবার উত্তেজনায় ফুটতে থাকে গ্রিনফেল টাওয়ার এলাকায়। এদিন অগ্নিকা-ের জন্য জবাব চেয়ে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মধ্য লন্ডনে বিক্ষোভে নামেন অগ্নিকা-ে ক্ষতিগ্রস্ত, এলাকার অধিবাসীরা। পশ্চিম লন্ডনে কেনসিংটন টাউন হলের বাইরে সমবেত হয় কয়েক শত মানুষ। এ সময় তারা জানতে চায়, কেন এই ট্রাজেডি ঘটল। এরপর তারা ছুটে যান গ্রিনফেল টাওয়ারের দিকে। ওদিকে আলাদা একটি বিক্ষোভ হয়েছে হোয়াইট হলে। অগ্নিকা-ের সময় সরকারের দায়বদ্ধতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভে মধ্য লন্ডন অচল হয়ে পড়ে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ডাউনিং স্ট্রিটের দিকে পদযাত্রা করার চেষ্টা করে। অনেকেই চিৎকার করে বলতে থাকে ‘তেরেসা মে’কে পদত্যাগ করতে হবে’, ‘গ্রিনফেল ঘটনায় সুবিচার চাই’। সরকারকে উদ্দেশ্য করে স্লোগান দেয়া হয় ‘তোমার হাতে রক্ত লেগে আছে’। এসব বিক্ষোভকারীকে ঘেরাও করে রাখে পুলিশ। হর্স গার্ডস প্যারেড থেকে যাত্রা শুরু করে ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে তাদেরকে আটকে দেয় পুুলিশ। আয়োজকরা বলছেন, এতে কমপক্ষে ১৪০০ মানুষ অংশ নিয়েছিল। অক্সফোর্ড সার্কাস ও বিবিসি ব্রডকাস্টিং হাউজের বাইরেও বিক্ষোভ হয়েছে। শুক্রবার সকালের দিকে সেইন্ট ক্লিমেন্টস চার্চে পৌঁছলে তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েন প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। এ সময় তার বিরুদ্ধে দুয়োধ্বনি দেয়া হয়। এ সময় ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীদের একজন প্রশ্ন ছুড়ে মারেন- তিনি এখানে কি করতে এসেছেন? বিলাসবহুল বাড়িতে তার ফিরে যাওয়া উচিত। কেন তিনি শুধু শুক্রবারে এখানে এসেছেন? তাকে চলে যেতে বলুন। এ সময় অন্যরা প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ‘খুনি’ ও ‘কাপুরুষোচিত’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। তেরেসা মে তার গাড়িতে উঠার সময় উত্তেজনা দেখা দেয়। পুলিশ তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ওদিকে নিরাপত্তা রক্ষায় ব্যর্থতার জন্য কঠিন প্রশ্নের মুখে রয়েছেন অনেক কাউন্সিলরও।
Share on Google Plus

About Nejam Kutubi

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment