তেরেসাকে সরকার গঠনের অনুমোদন

নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও নতুন সরকার গঠন করছেন তেরেসা মে। আর সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী থাকছেন তিনিই। রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন। তার দল কনজারভেটিভের সঙ্গে নতুন সরকারে থাকছে স্বল্প পরিচিত ডিইউপি। তাদেরকে নিয়ে গঠিত হচ্ছে নতুন সরকার। বাকিংহাম প্যালেসে রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে গতকাল দুপুরে সাক্ষাতের সময় তাকে এ সরকার গঠনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে কবে, কখন সেই সরকার শপথ নেবে তা জানানো হয় নি। এর আগে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় প্রধানমন্ত্রীর মে’র কনজারভেটিভ দল। বিরোধী লেবার দলের নেতা জেরেমি করবিন তার পদত্যাগের আহ্বান জানান। এমনকি নিজ দলের অনেক এমপি তেরেসা মে’কে পদত্যাগ করতে বলেন। কিন্তু তিনি পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানান। পূর্ব পরিকল্পনা মতো, তিনি ডিইউপিকে নিয়ে সরকার গঠনের পথে অগ্রসর হচ্ছেন। নির্বাচনে তার দল পেয়েছে ৩১৮ আসন। সরকার গঠন করতে হলে প্রয়োজন কমপক্ষে ৩২৬ আসন। সেক্ষেত্রে নতুন সরকার গঠন করতে তাকে ভর করতে হচ্ছে ডিইউপির ওপর। এ দলটি পেয়েছে ১০টি আসন। সব মিলে তার নতুন জোট সরকারে আসন সংখ্যা দাঁড়াবে ৩২৮। এর মধ্য দিয়ে এ জোট দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পূরণ করে ক্ষমতায় যাবে। বাকিংহাম প্যালেস থেকে ফিরে তেরেসা মে বলেন, তিনি রাণীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তিনি নতুন সরকার গঠন করবেন। ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে স্থাপিত পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, বৃটিশ জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে তিনি বাস্তবায়ন করবেন। সামনে এগিয়ে নেবেন ঐতিহাসিক ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া। সন্ত্রাস দমনে অব্যাহতভাবে কাজ করে যাবেন। তার ভাষায়, আমার নেতৃত্বাধীন সরকার যা কিছু করুক তার কেন্দ্রে থাকবে সুবিচার ও সুযোগ সুবিধা। আগামী ৫ বছরে আমরা এ দেশকে গড়ে তুলবো, যেখানে  কোনো ব্যক্তি বা কোনো সম্প্রদায় পিছনে পড়ে থাকবে না। দেশের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো নিরাপত্তা। আমরা সবচেয়ে বেশি আসনে বিজয়ী হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে বলেন, ডিইউপি’কে নিয়ে তারাই হবেন নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ। এর মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আসন তাদের দখলেই থাকবে। বাকিংহাম প্রাসাদ থেকে ফিরে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সামনে বলেন, বেশির ভাগ আসনে ও ভোটে বিজয়ী হওয়ার পর তার প্রশাসনেরই রয়েছে নতুন সরকার গঠনের বৈধতা। তিনি এ সময় ডিইউপির বন্ধু ও মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া সামনে এগিয়ে নেয়ার প্রত্যায় ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, আসুন আমরা কাজ শুরু করি। বিবিসির সাংবাদিক লরা কেউনসবার্গ বলছেন, প্রধানমন্ত্রী মে কিভাবে ডিইউপিকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছেন সে বিষয়ে কিছু বলেন নি বলেই ধরে নেয়া যায়। ফলে তাদের মধ্যে যে জোট হচ্ছে তা হতে পারে খুব দুর্বল। অন্যদিকে বিরোধী লেবার দলের নেতা জেরেমি করবিন প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, তিনি দেশের সেবা করার জন্য প্রস্তুত। লিবারেল ডেমোক্রেট নেতা টিম ফ্যারন বলেছেন, নির্বাচনী ফলের জন্য তেরেসা মে’র লজ্জিত হওয়া উচিত। তিনি তেরেসা মে’র তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, যদি তার নিজের ওপর সামান্য শ্রদ্ধা থাকতো তাহলে তিনি পদত্যাগ করতেন।
Share on Google Plus

About সায়রা সালমা

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment