লন্ডন টাওয়ার অগ্নিকাণ্ড: অনেক লাশই শনাক্ত করা যাবে না

লন্ডনের পুলিশ সতর্ক করে বলেছে, গ্রেনফেল টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের শিকার হওয়া অনেকের পরিচয় হয়তো কখনই শনাক্ত করা যাবে না। তৃতীয় দিনের মতো পোড়া ২৪ তলা ভবনটিতে লাশের সন্ধানে নামবেন। এখন পর্যন্ত ১৭ জনের লাশ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, মৃতের সংখ্যা বেড়ে শতাধিক হতে পারে। কারণ, উপর তলার কেউই নিচে নামতে পারেননি। আর উদ্ধারকারীরাও ঝুকিপূর্ণ সেসব স্থানে এখনও উদ্ধারকাজ চালাতে পারেননি। শতাধিক মানুষ অগ্নিকা-ের সময় সেখানে ছিলেন। এদের কেউই জীবিত নেই বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
খবরে বলা হয়, ফায়ার সার্ভিসের প্রধানরা বলে দিয়েছেন, জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা তারা আর করছেন না। প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে ঘটনাস্থলে গেলেও বেচে যাওয়া মানুষজন ও হতাহতদের আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা না করায় সমালোচনার মুখে প্রধানমন্ত্রী মে। তবে তিনি বলেছেন, এই অগ্নিকা- অনেক প্রশ্নের জবাব দিয়েছে। যেগুলোর উত্তর প্রয়োজন।
মেট্রোপলিটন পুলিশ কমান্ডার স্টুয়ার্ট কান্ডি বলেছেন, এখন পর্যন্ত ৬ জনের লাশ শনাক্ত করা গেছে। কিন্তু এমনও সম্ভাবনা আছে যে, আমরা হয়তো সব লাশের পরিচয় শনাক্ত করতে পারবো না।
ধারণা করা হচ্ছে, ভবনে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বৃষ্টিরোধী প্রলেপ ব্যবহার করায় আগুণ দ্রুত ছড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরও আগুণরোধী প্রলেপ ব্যবহার করা যেত। এদিকে যুক্তরাজ্যের বহু বাড়িঘরে ন্যুনতম অগ্নি প্রতিরোধক ব্যবস্থা নেই বলে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়া সত্ত্বেও বৃটিশ সরকার কোন ব্যবস্থা নেয়নি, এমন সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এ নিয়েও চাপে আছে সরকার। বিরোধী নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, এটি কর্পোরেট হত্যাযজ্ঞ। তিনি হতাহতদের দূরে কোথাও পাঠানোর বদলে লন্ডন শহরের খালি ফ্ল্যাটগুলোতে পুনর্বাসনের কথা বলেছেন।
Share on Google Plus

About বাংলা খবর

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment