৯ দিনের ভেতর আলোচিত তিন মামলার রায় by মহিউদ্দিন ফারুক

এপ্রিলে নয় দিনের ভেতর ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার, খুলনার শিশু রাকিব হাওলাদার ও সিলেটের সবজি বিক্রেতা শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন—আলোচিত এই তিন হত্যা মামলায় উচ্চ আদালতে রায় হতে যাচ্ছে। তিন মামলায় পৃথক ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আসামিদের করা আপিলের ওপর হাইকোর্টে রায় ঘোষণার দিন ধার্য রয়েছে।
এর মধ্যে রাজীব হায়দার হত্যা মামলায় কাল রোববার রায় ঘোষণার দিন রয়েছে। এরপর রাকিব হত্যা মামলায় ৪ এপ্রিল এবং রাজন হত্যা মামলায় ১১ এপ্রিল উচ্চ আদালতের একই বেঞ্চে রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য রয়েছে। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পৃথক ডেথ রেফারেন্স ও তিন মামলায় আসামিদের করা আপিলের ওপর শুনানি শেষে গেল মাসে রায়ের ওই দিন ধার্য করেন।
এই আদালতে নিয়োজিত সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আতিকুল হক সেলিম শনিবার বলেন, রাজীব হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের ওপর রোববার রায় দেবেন হাইকোর্ট। এরপর রয়েছে রাকিব হত্যা ও রাজন হত্যা মামলা। রাকিবের মামলায় রায়ের জন্য ৪ এপ্রিল ও রাজনের মামলায় ১১ এপ্রিল দিন রাখা হয়েছে।
আলোচিত তিন মামলা
ব্লগার রাজীব হত্যা মামলা
২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পল্লবী থানার পলাশনগরে নিজ বাড়ির সামনে ব্লগার রাজীব হায়দারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় রাজীবের বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন। এই মামলায় গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ রায় দেন। রায়ে জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য রেদোয়ানুল ও ফয়সালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া মাকসুদুল হাসান অনিককে যাবজ্জীবন, এহসান রেজা, নাঈম শিকদার ও নাফিজ ইমতিয়াজকে ১০ বছর করে, আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি মো. জসীম উদ্দিন রাহমানীকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং সাদমান ইয়াছির মাহমুদকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জসীম উদ্দিন রাহমানী ছাড়া সাজাপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিষ্কৃত ছাত্র।
নিম্ন আদালতের রায়ের পর রায়সহ মামলার নথিপত্র গত বছরের ১৭ জানুয়ারি হাইকোর্টে এসে পৌঁছে এবং ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত হয়। প্রধান বিচারপতি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলার পেপারবুক প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দেন। পরে পেপারবুক প্রস্তুত হয়ে সরকারি ছাপাখানা থেকে আসার পর প্রধান বিচারপতি ওই বেঞ্চে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য পাঠান। এর ধারাবাহিকতায় গত ৩১ অক্টোবর হাইকোর্টের ওই বেঞ্চের তালিকায় মামলাটি আসে। ২২ কার্যদিবসে ৯ জানুয়ারি ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষে আদালত মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। ২৭ মার্চ আদালত ২ এপ্রিল রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেন।
শিশু রাকিব হত্যা মামলা
২০১৫ সালের ৩ আগস্ট খুলনার টুটুপাড়া কবরখানা মোড়ে শরীফ মোটরস নামের এক গ্যারেজে চাকায় হাওয়া দেওয়ার কমপ্রেশার মেশিনের মাধ্যমে মলদ্বারে হাওয়া ঢুকিয়ে হত্যা করা হয় শিশু রাকিবকে। পরদিন রাকিবের বাবা মো. নুরুল আলম বাদী হয়ে শরীফ, মিন্টু ও শরীফের মা বিউটি বেগমের বিরুদ্ধে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলা হওয়ার ৯৬ দিনে বিচারপ্রক্রিয়া শেষে একই বছরের ৮ নভেম্বর রায় দেন খুলনার আদালত। রায়ে এই মামলায় শরীফ মোটরসের মালিক ওমর শরীফ ও তাঁর সহযোগী মিন্টুকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। এরপর রায়সহ মামলার নথিপত্র ওই বছরের ১০ নভেম্বর হাইকোর্টে এসে পৌঁছে এবং ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত হয়। দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল ও জেল আপিল করেন। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে এই মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক (মামলার বৃত্তান্ত) প্রস্তুত করা হয়। এরপর হাইকোর্টের ওই বেঞ্চে শুনানির জন্য মামলাটি আসে, ১০ জানুয়ারি এর ওপর শুনানি শুরু হয়। ২৯ মার্চ ১১তম দিনে শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য ৪ এপ্রিল দিন ধার্য করেন।
শিশু রাজন হত্যা মামলা
সিলেটের কুমারগাঁওয়ে চুরির অভিযোগে ২০১৫ সালের ৮ জুলাই শিশু রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। সেই নির্যাতনের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এ নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তদন্ত শেষে ওই বছরের ১৬ আগস্ট ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ১৭ কার্যদিবস বিচারিক কার্যক্রম শেষে ওই বছরের ৮ নভেম্বর বিচারিক আদালত রায় দেন। রায়ে আসামিদের মধ্যে কামরুল ইসলাম, ময়না চৌকিদার, তাজউদ্দিন আহমদ বাদল ও জাকির হোসেন পাভেল আহমদের ফাঁসির আদেশ হয়। কামরুলের সহযোগী নূর মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং কামরুলের তিন ভাই মুহিত আলম, আলী হায়দার ও শামীম আহমদকে (পলাতক) সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এক বছর করে দণ্ড হয় দুলাল আহমদ ও আয়াজ আলীর। পরে আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি আসামিরা আপিল ও জেল আপিল করেন। এই মামলায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়। এরপর ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের ওপর ৩০ জানুয়ারি শুনানি শুরু হয়। ১৯তম দিনে শুনানি শেষে ১২ মার্চ আদালত ১১ এপ্রিল রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেন।
>>>ক্রাইম পেট্রল নিউজ
Share on Google Plus

About বাংলা খবর

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment