চট্টগ্রামে নুরু হত্যাকাণ্ড: বদনাম ঘোচাতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি আওয়ামী লীগ নেতাদের

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা নুরুল আলম নুরুকে গুলি করে হত্যা করলো কারা? এ প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র। নুরু কি প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার নাকি তাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে- তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা।
এই ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থিত পৌর মেয়রও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তার সঙ্গে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের নেতারাও বলেছেন, বাসা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে যে-ই তাকে হত্যা করুক সরকারের উচিত প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনা।
রাউজান পৌরসভার মেয়র ও চট্টগ্রামের উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সাংগঠনিক সম্পাদক দেবাশীষ পালিত বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ছাড়াও আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। একজন লোককে বাসা থেকে তুলে নিয়ে খুন করা হবে তা কখনই কাম্য নয়। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে আমি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সমর্থন করি না। তিনি বলেন, এই ঘটনায় যদি আওয়ামী লীগের কেউ জড়িত থাকে তাকেও গ্রেপ্তার করা হোক। পাশাপাশি বিএনপি, জাতীয় পার্টি কিংবা অন্য কোনো সংস্থার লোকজন যদি জড়িত থাকে তবে তাদেরকেও গ্রেপ্তার করে দেশবাসীর সামনে হাজির করা হোক।
এদিকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা নুরুল আলম নুরুকে ঘটনার দিন বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় ইউনিফর্ম পরিহিত রাউজান থানার নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শেখ জাভেদকে তারা স্পষ্ট দেখেছেন বলে দাবি করে আসছেন।
তার নেতৃত্বে দুই পুলিশ সদস্য ও ৮/১০ জন সাদা পোশাকধারী  লোক একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে নুরুকে চট্টগ্রাম চন্দনপুরা এলাকার বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এই ঘটনার পর গতকাল নিরপেক্ষতার স্বার্থে থানায় দায়ের করা মামলার তদন্ত কার্যক্রম সিআইডি অথবা পিবিআইকে দিতে পুলিশ সদর দপ্তরকে চিঠি দিয়ে জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। যেহেতু ঘটনার সঙ্গে পুলিশের একজন সদস্যের নাম জড়িয়ে গেছে, তাই সুষ্ঠু তদন্তের জন্য জরুরি বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
তিনি বলেছেন, ডিবি পুলিশ পরিচয়ে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সরকার থেকে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য চাপ আসছে। যারাই এই ঘটনা ঘটাক তাদের অবিলম্বে শাস্তির আওতায় আনার কথা জানানো হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা বলেন, আশা করছি তদন্ত শুরু হলে আসামিরা ধরা পড়ে যাবে। যারাই জড়িত থাক তাদের খুঁজে বের করা হবে। নুরুল আলমের স্ত্রী বলেছেন তার স্বামীকে পুলিশের একজন ধরে নিয়ে গেছে। তাই আমরা ফেয়ার (নিরপেক্ষ) তদন্ত হোক-  সেটাই চাচ্ছি। পারিবারিক সূত্র জানায়, গত বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম নগরের চন্দনপুরার বাসা থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা নুরুল আলম নুরুকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে নিয়ে যায় একদল লোক। গত বৃহস্পতিবার সকালে রাউজান উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের খেলারঘাট বাজারের পাশে কর্ণফুলী নদীর তীরে তার লাশ পাওয়া যায়।
Share on Google Plus

About বাংলা খবর

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment