মহেশখালীর-শাপলাপুর কর্মসৃজন প্রকল্পে চলছে হরিলুট!



নিজস্ব প্রতিবেদক ঃমহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নে সরকারে হতদরিদ্রদের জন্য গৃহীত কর্মসৃজন কর্মসূচীর উদ্যেশ্য ভেস্তে যেতে বসেছে। ইউনিয়নের প্রকল্প সভাপতি হিসাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান জসিম সহ ইউপি মেম্বাররা কাজের চেয়ে আত্মসাতের দিকে ঝুঁকছে বেশী। আর তাই প্রতি বছরের ন্যায় কাজ না করে ব্যাংকের লোকদের নিয়ে কাজের টাকা হরিলুটের চিন্তা করছে এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। জানা যায়,শাপলাপুর ইউনিয়নে ৯টি প্রকল্পের অধিনে ৬০০জন শ্রমিক কাজ করছে। সপ্তাহে পাঁচদিন কাজ করে একমাস পরপর ব্যাংক থেকে শ্রমিকরা টাকা উত্তোলন করবে ।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, প্রতিবছর সপ্তাহে ২/৩দিন কাজ করে এবং অল্প সংখ্যক শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করে টেক অফিসার সহ সবাইকে ম্যানেজ করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করছে মেম্বাররা এমন অভিযোগ করেন স্থানিয় জেমঘাট এলাকার গ্রামের মোস্তাক। নাম প্রকাশে অনেক শ্রমিক এর সত্যতা স্বীকর করে বলেন , সপ্তাহে ২/৩দিন কাজ করায়। এখন ২ সপ্তাহে মাত্র ৩ দিন কাজ করাইছে। গত বছর সব সময় তাদের কাছ থেকে স্বাক্ষর/টিপসহি নিয়ে মেম্বাররা ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে শ্রমিকদের মাসে ৮/১০ দিনের টাকা দেয়। শাপলাপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার জসিম, ৩ ওয়ার্ডের সেলিম, ৯নং ওয়ার্ডের নুরুল আমিন, ১,২,৩, নং ওয়ার্ডেও দিলু ও ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার আনেয়ারা এর নেতৃত্বে এ হরিলুট চলে বলে জানান ঐ শ্রমিকরা ( নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রমিকদের কথার অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে) । এ প্রতিবেদক গত সপ্তাহে ১.২.৩ নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার এবং লুটপাটের মুল নায়ক দিলুয়ারা মেম্বারের প্রকল্পে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ৭০ জন শ্রমিকের মধ্যে ৩০ জন উপস্থিত আছে । শ্রমিকদের নিকট জানতে চাইলে তারা বলেন প্রতিদিন ৩০/৩৫ জন উপস্থিত থাকে । এ প্রতিবেদক সাথে সাথে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে ফোনে অবহিত করলে তিনি ব্যাবস্থা নিচ্ছেন বলে জানান এবয় প্রকল্প বাস্থবায়ন কর্মকর্তাকে জানানোর কথা বলেন । প্রতিবেদক প্রকল্প কর্মকর্তা  সাকিব কে বার বার ফোন করেও ফোন রিসিভ না করায় এ সময় তাকে বিষয়টি জানানো সম্ভব হয়নি।
এর প্রমান মিলে শাপলাপুর ইউনিয়নে সরেজমিনে কাজ দেখতে গেলে স্থানিয় সাংবাদিকরা  ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার জসিমের প্রকল্পে কাজ বন্ধ পায় এবং আর সব প্রকল্পে অর্ধেকেরও কম শ্রমিক কাজে দেখতে পায়। এ বিষয়ে মহেশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন টেক অফিসার শামসুল আলমের  সাথে মোবাইলে কথা হলে তিনি বলেন,২ নং ওয়ার্ডের কাজ বন্ধ ছিল সত্য যাহা ইউএনও মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে।
সব প্রকল্পে শ্রমিক উপস্থিতি কম দেখেছি। মোটামোটি কাজের মান সন্তোষ জনক নয় বলে স্বীকার করেন তিনি। আর টাকা উত্তোলনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি আগের বিষয়গুলো শুনেছেন বলে জানান এবং এখন ব্যাংক থেকে শ্রমিক ব্যাতিত কেউ টাকা তুলতে না পারে মতো ব্যাবস্থা নেওয়া হবে ,আর কোন ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই বলে জানান এ কর্মকর্তা।
Share on Google Plus

About Iqbal Bahar

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment