প্রটোকল ভেঙে মোদির চমক



প্রটোকল ভেঙে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার আমন্ত্রণে ৪ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গতকাল দুপুরে নয়াদিল্লি পৌঁছান শেখ হাসিনা। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোদির উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো ছাড়া সেখানে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ বিমানের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে ভারতীয় বিমানবাহিনীর পালাম স্টেশন বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে আগে থেকে উপস্থিত  নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া হাতে দিয়ে স্বাগত জানান। ভারতের ভারি শিল্প ও পাবলিক এন্টারপ্রাইজ প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়া এবং ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বাবুল সুপ্রিয়াই প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর কথা থাকলেও সবাইকে চমকে দিয়ে বিমানবন্দরে হাজির হন মোদি। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের গাঢ়তা প্রকাশেই মোদি এই আন্তরিকতা দেখালেন।
পালাম স্টেশন থেকে প্রধানমন্ত্রীকে একটি সুসজ্জিত মোটর শোভাযাত্রা সহকারে রাষ্ট্রপতি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী সেখানে অবস্থান করবেন। বিকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর সন্ধ্যায় দিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে প্রধানমন্ত্রীকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা দেয়া হয়। সংবর্ধনায় কূটনীতিক, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। সফরের দ্বিতীয় দিনে আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্রপতি ভবনে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। পরে প্রধানমন্ত্রী ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর সমাধিসৌধ পরিদর্শনে গিয়ে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান এ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। আজই হায়দ্রাবাদ হাউজে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় দুই নেতার মধ্যে একান্ত বৈঠকও হবে। একান্ত বৈঠক এবং দ্বিপক্ষীয় আনুষ্ঠানিক আলোচনার পর দুই নেতার উপস্থিতিতে একগুচ্ছ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। স্বাক্ষরিত চুক্তি ও সমঝোতার সংখ্যা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস মাহমুদ আলী জানিয়েছেন, ৩৩টি চুক্তি ও সমঝোতা হবে। আর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ-মিয়ানমার ডেস্কের প্রধান শ্রীপিয়া রঙ্গনাথন বলেছেন ২০-এর বেশি। তবে ঢাকা ও দিল্লি উভয়ের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে দুটি বিষয় প্রায় নিশ্চিত করা হয়েছে তাহলো- প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি হচ্ছে না। আর ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা খাতে এবারই প্রথম সমঝোতা স্মারক সই হবে। আজই তা সই হবে বলেও উভয় পক্ষ নিশ্চিত করেছে। উভয়ের তরফে এ-ও বলা হয়েছে- শনিবার প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠকে বাণিজ্যিক, সামরিক, শক্তি এবং পানি বণ্টন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হবে। বাংলাদেশের পরিকাঠামো উন্নয়নে ভারত ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের সহায়তা ঘোষণাও দিতে পারে।
মোদির চমক যেভাবে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে প্রটোকল ভেঙে নিজেই বিমানবন্দরে হাজির হলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। লোককল্যাণ মার্গের বাসভবন থেকে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত যে রাস্তা ধরে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, সে রাস্তায় কোনো রকম ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়নি। প্রায় সাত বছর পর পুরোপুরি দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতে গেছেন শেখ হাসিনা। এর মাঝে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী শুভ্রা মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণের পর এবং গোয়ায় আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী ভারতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময়ে তার কোনো দ্বিপক্ষীয় কর্মসূচি ছিল না। স্বাভাবিকভাবেই বহুপ্রতীক্ষিত ছিল শেখ হাসিনার এ ভারত সফরটি। মোদির তরফে হয়তো সেভাবেই সবকিছু বিবেচনা করা হয়েছে। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী মোদির বিমানবন্দরে যাওয়ার কথা ছিল না। বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিমানটি গন্তব্যে পৌঁছার আগেই মোদি সেখানে পৌঁছে যান। বিমান থেকে শেখ হাসিনা বের হওয়ার পর তার হাতেই ফুলের তোড়া তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সঙ্গে বাবুল সুপ্রিয়। দিল্লি সূত্রের খবর স্বাভাবিক ট্র্যাফিকের মধ্যে দিয়েই মোদির কনভয় বিমানবন্দরে পৌঁছায়। শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে প্রধানমন্ত্রী নিজেই বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন, পিএমও-র টুইটার হ্যান্ডলে সে কথা জানানো হয়।
Share on Google Plus

About Nejam Kutubi

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment