বিশ্বে যারা শান্তিতে বিশ্বাস করে তাদের নিয়ে কাজ করতে হবে -প্রধানমন্ত্রী



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদে লাভবান হয় অস্ত্র ব্যবসায়ীরা। তারা অস্ত্র তৈরি করে, বিক্রি করে। সেই অস্ত্রে রঞ্জিত হয় মুসলমানের রক্ত। মুসলমানের রক্তের বিনিময়ে লাভবান হয় অস্ত্র ব্যবসায়ীরা। ইসলাম শান্তির ধর্ম এবং এখানে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই বলে পবিত্র মক্কা শরিফ ও মসজিদে নববীর দুই খতিব যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সবার কাছে পৌঁছে দেয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে পবিত্র দুই মসজিদের খতিবদের বক্তব্য সরকারের প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেবে এবং সহজ করবে। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গতকাল ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ওলামা মাশায়েখ ও আলেম-ওলামাদের মহাসম্মেল তিনি এসব কথা বলেন। এদিকে শেখ হাসিনার বক্তব্যের আগে সম্মেলনে বক্তৃতা করেন মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব ড. আবদুল মুহসিন আল কাসিম এবং মক্কার হারাম শরিফের দ্বিতীয় প্রশাসনিক প্রধান ড. মুহাম্মাদ বিন নাসের আল খুজাইম। তারা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সৌদি সরকারের অবস্থান জানিয়ে এ বিষয়ে সবাইকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার সম্পর্ক অনেক মজবুত অবস্থানে রয়েছে। আমাদের ধর্ম শান্তির ধর্ম। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যার ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। তারপর থেকে ইসলামের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনা বলেন, ধর্মের নামে কেউ যেন কারও ক্ষতি না করে, জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড করতে না পারে সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রত্যেককে এক হয়ে ইসলামের পথে কাজ করতে হবে। কেউ যেন জঙ্গিবাদের পথে না যায় সেটা খেয়াল করতে হবে। ইসলাম সবসময় মানবতাবাদে বিশ্বাস করে। ইসলাম ক্ষমা ও ভ্রাতৃত্বের ধর্ম। অসহায়দের সহায়তা করতে ইসলাম শিক্ষা দেয়। বিশ্বে যারা শান্তিতে বিশ্বাস করে, তাদের নিয়ে কাজ করতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সৌদি সরকারের উদ্দেশে বলেন, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমনে আমরা একসঙ্গে কাজ করবো। প্রতিটি দেশের মানুষের মধ্যে যেন শান্তি ফিরে আসে সে পথে আমাদের কাজ করতে হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যেখানেই সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দেবে, সেখানে আপনাদের ব্যবস্থা নিতে হবে। অবশ্য এরই মধ্যে আপনারা সে ব্যবস্থা নিয়েছেনও। যারা জঙ্গিবাদে বিশ্বাস করে, তাদের কোনো ধর্ম নেই। জঙ্গিবাদই তাদের ধর্ম। যারা ইসলামকে হেয় করতে চায়, তাদের সেই ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে। সরকারপ্রধান জানান, যারা জঙ্গিবাদে চলে গছে, তারা যদি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়, তবে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা সরকার করবে। ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তৃতা করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচারক শামীম মোহাম্মদ আফজাল। মঞ্চে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আল মুতাইরি উপস্থিত ছিলেন।
Share on Google Plus

About Nejam Kutubi

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment