আইপিইউ সম্মেলনের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন

অর্থনৈতিক, সামাজিক ও অবিচার দূর করে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) ১৩৬তম সম্মেলন শুরু হয়েছে। গতকাল রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এর উদ্বোধন করা হয়। ৫ দিনব্যাপী এ সম্মেলন শেষ হবে ৫ই এপ্রিল। আজ থেকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এর কার্যক্রম চলবে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ও আইপিইউ এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে। গতকাল সম্মেলন উদ্বোধনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ‘আইপিইউ অনলাইন টেলিভিশন’ উদ্বোধন করেন। সংগঠনটির ১৩৮ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আইপিইউ টিভি চালু করলো। এ ছাড়াও  প্রধানমন্ত্রী আইপিইউ সম্মেলন উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন কবেন। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য- ‘সমাজের বৈষম্য নিরসনের মাধ্যমে সবার মর্যাদা ও মঙ্গল সাধন।’ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ১৩৬তম আইপিইউ এসেম্বলির সভাপতি ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন আইপিইউ প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী ও আইপিইউ সেক্রেটারি জেনারেল মার্টিন চুংগং। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিল ৩৫ মিনিটের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রথমে কোরিওগ্রাফির মাধ্যমে বাঙালির লড়াই-সংগ্রামের সুদীর্ঘ ইতিহাস ও আবহমান বাংলার সংস্কৃতির চিত্র তুলে ধরা হয়। এরপর থ্রিডি ম্যাপিং ও অটো প্রজেকশনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনার শাসনামল পর্যন্ত বিভিন্ন উন্নয়ন ও বাংলার ঐতিহাসিক স্থাপনার চিত্র। যেখানে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখানো হয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বতার চিত্র। সাংস্কৃতির অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভাষা আন্দোলনের উপর একটি বেদনাবিধুর সংগ্রামের কোরিওগ্রাফি দেখানো হয়।
সম্মেলনে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ১৩২টি সদস্য দেশ ও ৪২টি সহযোগী সংস্থা অংশগ্রহণ করেছে। আর অংশগ্রহণকারী স্পিকারের সংখ্যা ৫৩ জন ও ডেপুটি স্পিকার ৪০জন। অংশগ্রহণকারী ৮৯৬ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২০৯ জন নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন। এছাড়া সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক রয়েছেন দুইশ’রও বেশি। যারা ইতিমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছেন। আর ডেপুটি স্পিকার এডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশের ১৭ সদস্যের প্রতিনিধি দল এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। প্রতিনিধি দলে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদও রয়েছেন। সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে নিয়ে ১৮৮৯ সালে গঠিত আইপিইউ’র বাংলাদেশ সদস্যপদ পেয়েছে ১৯৭২ সালে। আর সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী ২০১৪ সালের ১৬ই অক্টোবর প্রথমবারের মতো আইপিইউ’র প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এরপর আইপিইউ সম্মেলনের উদ্যোগ নেয়া হয়। সম্মেলনকে ঘিরে নেয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা। এর আগে নিরাপত্তার শঙ্কায় সিপিএ সম্মেলন বাতিল হওয়ায় বাংলাদেশ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। তাই সম্মেলনকে সামনে রেখে পুরো রাজধানীতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ১০ হাজারেরও বেশি সদস্য এই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দায়িত্ব পালন করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল শনিবার সকালে অনুষ্ঠানস্থল ঘুরে দেখেন এবং নিরাপত্তার খোঁজ-খবর নেন। এসময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার সঙ্গে ছিলেন। এদিকে সংসদ ভবন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি সম্মেলন চলাকালে সংসদ ভবনে দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিমানবন্দরেও দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এছাড়া সম্মেলন চলাকালে রাজধানীর কয়েকটি সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই সম্মেলন উপলক্ষে বিমানবন্দর থেকে বিজয় সরণি হয়ে জাতীয় সংসদ ও অন্যদিকে হোটেল সোনারগাঁও পর্যন্ত সড়ক এখন বাহারি সাজে সজ্জিত। বর্ণিল সাজে সেজেছে রাজধানীর অন্যান্য ভিআইপি সড়কগুলোও। এ সড়কপথে দু’টি ফ্লাইওভার জুড়ে রয়েছে আলোর ঝলকানি। পহেলা বৈশাখ (১৪ই এপ্রিল) পর্যন্ত এই আলোকসজ্জা থাকবে। আনুষ্ঠানস্থলের পাশাপাশি সংসদ ভবন ও বিআইসিসিতেও বর্ণাঢ্য আলোকসজ্জা করা হয়েছে। ডিজিটাল ডিসপ্লের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে আইপিইউ’র নানা কর্মকাণ্ড। ব্যানার ফেস্টুনে শোভা পাচ্ছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার ও আইপিইউ প্রেসিডেন্টের ছবি। সেখানে সংসদ ভবনসহ অন্যান্য স্থাপনার ছবিও রয়েছে।
Share on Google Plus

About বাংলা খবর

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment