হাসিনার সম্মানে নৈশভোজে মমতা আমন্ত্রিত, তার সঙ্গে আলোচনা করেই তিস্তা চুক্তি

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় যে নৈশভোজের আয়োজন করেছেন তাতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আগামী ৮ই এপ্রিল এই নৈশভোজ হওয়ার কথা। এ অনুষ্ঠানেই মমতার সঙ্গে শেখ হাসিনার মত বিনিময় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর তিস্তা নিয়ে যে মমতার মত জানার চেষ্টা হবে সেটাও মনে করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় এ ব্যাপারে পরোক্ষে ভূমিকাও নিতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছেন। তবে এ অনুষ্ঠানে মমতা যোগ দিচ্ছেন কিনা তা অবশ্য এখনও জানা যায় নি। কিন্তু রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণকে মমতা ফিরিয়ে দেবেন না বলেই ধারণা পর্যবেক্ষকদের। তাছাড়া শেখ হাসিনার সঙ্গে মমতার যে সখ্য রয়েছে সেদিক থেকেই মমতার পক্ষে না করা সম্ভব হবে না। এই নৈশভোজে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৭ই এপ্রিল শেখ হাসিনা ভারত সফরে আসছেন তিন দিনের জন্য। এই সফরে তিস্তা নিয়ে কোনও চুক্তি হচ্ছে না ঠিকই তবে চুক্তির খসড়া নিয়ে এক প্রস্থ আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। মমতা অবশ্য অভিযোগ করেছেন, তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভারত সরকার তার সঙ্গে আলোচনা করছেন না। শুক্রবার রাজ্য বিজেপি দপ্তরে জনতার দরবারে যোগ দিতে এসে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় আশ্বাস দিয়েছেন, রাজ্যকে না জানিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর করবে না কেন্দ্র। রাজ্যের মতামত নিয়েই চুক্তি হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এর আগে ভারত সরকারের পক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছিলেন সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা করা হবে। তবে ভারত সরকার রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে মমতাকে বার্তা দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। মমতার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির খুবই সুসম্পর্ক রয়েছে। অতীতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে প্রণববাবু তিস্তার গোটা প্রেক্ষাপটটাই ভালো করে জানেন। আর এবার নজিরবিহীনভাবে শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্রপতি তার অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রপতি ভবনে থাকার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
Share on Google Plus

About বাংলা খবর

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment