জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে সরকার



জনগণের প্রতিবাদকে তাচ্ছিল্য করে ভারতের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের মধ্য দিয়ে সরকার বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দিল্লিতে দুই দেশের মধ্যে তিনটি প্রতিরক্ষা সমঝোতা স্মারকসহ ২২টি চুক্তি সইয়ের পর গতকাল বিকালে দলটির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র রিজভী আহমেদ এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, জনগণকে অন্ধকারের মধ্যে রেখে, জনগণকে কোনো কিছু না জানিয়ে গণমাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে ২২ চুক্তি এবং ৪ সমঝোতা স্মারকে সই করছেন। এর মধ্যে তিনটি প্রতিরক্ষা সমঝোতা স্মারকে সই করা হয়েছে। আমরা মনে করি, এটা সম্পূর্ণভাবে জনমতকে তাচ্ছিল্য করে এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করা হলো। এটি দেশ ও জনগণের প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা। এসব চুক্তি দেশ ও জনবিরোধী। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারকে সই করার আগে দেশের জনগণকে একটি শব্দ অবহিত না করা- এটা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। আমরা এর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। রিজভী বলেন, আমাদের সবচাইতে অহংকারের যে জায়গা, আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার যে বিষয়টি- সেটি হচ্ছে আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। সেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে উন্মোচন করে দেয়া হলো ভারতের কাছে। আমাদের নিরাপত্তা, আমাদের অস্তিত্ব বিপন্ন করার মতো একটি জায়গায় উপনীত হলো এই প্রতিরক্ষা সমঝোতা স্মারকে সই করে। নিরাপত্তা বা প্রতিরক্ষা এটি একেবারে নিজস্ব ব্যাপার। এটাকে আমরা কিভাবে আধুনিকায়ন করবো, এটাকে কিভাবে আরো বেশি শক্তিশালী করবো, বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার জন্য গড়ে তুলবো, এটা একেবারে আমাদের দেশের পলিসি মেকারদের ব্যাপার। কিন্তু সেখানে আমাদের নিরাপত্তাকে আরো উন্মোচন করা হলো। এই সরকার জনমত ও মানুষের প্রতি যে মর্যাদা, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে তাচ্ছিল্য করে এই স্মারকে সই করা হয়েছে। জনগণকে অন্ধকারে রেখেই এসব চুক্তির উদ্দেশ্য হচ্ছে অনির্বাচিত শাসকগোষ্ঠীর ক্ষমতাকে পোক্ত করা। কিন্তু এসব চুক্তি করে সরকার বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। রিজভী বলেন, প্রতিবেশী দেশটি বাংলাদেশ ও দেশের জনগণকে কোনো মর্যাদা দেয় না। তারা শুধুমাত্রই রক্ষা করতে চায় এদেশের একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে যারা এখন জোর করে ক্ষমতায় আছে। তাদেরকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার জন্য তারা (ভারত) কূটনীতিক পাঠিয়েছিলেন ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের প্রাক্কালে। এই যে তাদের অশুভ ইচ্ছা একটি রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখা যেনতেন প্রকারে। আমরা সেটারই প্রতিফলন এখন দেখতে পাচ্ছি ক্রমাগতভাবে। দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে সংবাদ সম্মেলনে সঞ্চালকের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাসির বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রিজভী বলেন, আমরা গণমাধ্যমে এও দেখেছি, সঞ্চালকের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রীর হাসি আর থামছে না। কারণ তিনি এমন একটি কাজ করেছেন, গোটা জাতি যখন স্তব্ধ, গোটা জাতি নির্বাক। স্বীয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব যখন বিপন্ন হওয়ার পথে তিনি তখন তার সহযোগীদের সন্তুষ্ট করাতে এই হাসি হাসছেন। কিন্তু বাংলাদেশের হৃদয়ে যে কান্না ঝরে পড়ছে, সেটি তিনি উপলব্ধি করতে পারছেন না। কিভাবে একটি দেশকে ক্রমান্বয়ে আরেকটি দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে ঠেলে দিয়ে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষাকে দুর্বল করলেন, সেটি প্রধানমন্ত্রী উপলব্ধি করেছেন ঠিকই কিন্তু তিনি তার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এটি করেছেন- এ জন্য তিনি হাসছেন। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এখন সোনালী পর্বে- ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, উনি (নরেন্দ্র মোদি) ঠিকই বলেছেন। কারণ বাংলাদেশ থেকে যা পেয়েছেন, এটা তাদের কল্পনাতীত ছিল। কোনো জাতীয়তাবাদী সরকার থাকলে এতোটা পেতেন না। অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকতো, বৈদেশিক সম্পর্ক থাকতো, কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকতো, বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকতো। কিন্তু কোনো দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী সরকার নিজের দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অন্য দেশের হাতে তুলে দিতো না। যেহেতু ভোটারবিহীন সরকার এটি করেছেন, এ জন্য এটি একটি সোনালী পর্বে আছে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের কাছে এটি একটি অমানিশার পর্ব, এটি একটি ধূসর পর্ব। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী আহমেদ বলেন, জনগণের বাঁচা-মরার প্রশ্ন তিস্তা চুক্তি নিয়ে সরকার কথা বলছে না। কারণ কথা বললে তাদের বন্ধুরা বিরক্ত হবে, মনঃক্ষুণ্ন হবে। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, হারুনুর রশীদ, আবু নাসের  রহমাতুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
Share on Google Plus

About Nejam Kutubi

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment