আত্মপরিচয় চর্চার অধিকার আছে স্কটিশদের

স্বাধীন হতে নতুন গণভোটের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে-র কাছে লিখিত আবেদন করেছেন স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টার্জেন। শুক্রবার লেখা ওই চিঠিতে তিনি পরিষ্কার করে  বলেছেন, নিজেদের আত্মপরিচয় চর্চার অধিকার আছে স্কটিশদের। এতে স্কটল্যান্ডের পার্লামেন্টে স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। তাই দ্বিতীয় একটি গণভোট অনুষ্ঠানে ক্ষমতা তাকে দেয়ার জন্য তেরেসা মে-র কাছে ওই চিঠি লিখেছেন নিকোলা। এতে তিনি যুক্তি তুলে ধরে বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক বাজার থেকে ব্রিটেন বেরিয়ে যাওয়ার যে পরিকল্পনা নিয়েছে তার একটি বড় প্রভাব পড়েছে স্কটল্যান্ডে। এ দেশটি গত জুনে ব্রেক্সিট গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে থাকার পক্ষেই রায় দিয়েছিল। তাই নিকোলা স্টার্জেন লিখেছেন, পরিবর্তিত এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে স্কটল্যান্ডের জনগণের তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ বেছে নেয়ার অধিকার আছে। সংক্ষেপে বলা যায়, তাদের আত্মপরিচয় চর্চার অধিকার আছে। গত ২৮শে মার্চ স্কটল্যান্ডের পার্লামেন্ট স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট দেয়ার জন্য প্রস্তাব ভোটে দেয়। সেই প্রস্তাব ৬৯-৫৯ ভোটের ব্যবধানে পাস হয়। তাই ২০১৮ সালের শরত থেকে ২০১৯ সালের বসন্তের মধ্যে ওই গণভোট করতে চায় স্কটল্যান্ড। তবে ব্রিটিশ সরকার বলেছে, তারা এ অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করবে। প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে পরিষ্কার করে বলেছেন, আরেকটি ভোট হওয়ার সময় এখন নয়। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালেও একই দাবিতে স্কটল্যান্ডে ভোট হয়েছিল। কিন্তু তাতে ভোটাররা এর বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল। নিকোলা স্টার্জেন বলেন, তখনকার সেই অবস্থা নাটকীয়ভাবে পাল্টে গেছে। ওদিকে তার লেখা হাতে পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে ডাউনিং স্ট্রিট। তারা যথাসময়ে এর জবাব দেবে বলে জানানো হয়েছে। এ ভোটের অধিকারকে প্রত্যাখ্যান করার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই বলে মনে করেন নিকোলা স্টার্জেন। তাই তিনি লিখেছে, আমার একান্ত দৃষ্টিতে স্কটিশ পার্লামেন্টের এমন ম্যান্ডেট অবশ্যই সম্মান জানানো উচিত ও তা সামনে এগিয়ে নেয়া উচিত। এক্ষেত্রে যদি নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। প্রশ্নটা হলো কিভাবে তা নিয়ে।
যেহেতু আমরা একটি নতুন অবস্থার দিকে ধাবিত তাই আমাদের আরো সরাসরি ভূমিকা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রভাবের বিষয়ে একমত হতে হবে। আমাদের সবার জন্য উপকারে আসবে এমন সব মূল স্বার্থ যাতে প্রতিফলিত হয়।
যাহোক যে ফলই আসুক, তা হবে অপরিহার্য। তাতে যুক্তরাজ্য শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসবে না একই সঙ্গে বেরিয়ে আসবে একক বাজার সুবিধা থেকে। আপনি সচেতন আছেন যে, স্কটল্যান্ডের মানুষ যে লক্ষ্যে ভোট দিয়েছে ফল সেটা আসেনি। যে ফল এসেছে তা আমাদের অর্থনীতি, সমাজ ও বিশ্বে আমাদের অবস্থানের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
বড় ধরনের এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে, স্কটল্যান্ডের জনগণের অবশ্যই তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ বেছে নেয়ার অধিকার আছে। সংক্ষেপে বলা যায়, আমাদের আত্মপরিচয়ের অধিকার চর্চ করার অধিকার।
আপনি প্রেসিডেন্ট টাস্কের কাছে পাঠানো আপনার আত্মপরিচয়ের মূলনীতিতে যেসব কথা বলেছেন, আমি তার গুরুত্ব বুঝতে পারি।
আপনি আরো জানেন যে, স্কটল্যান্ডে স্বাধীনতার জন্য গণভোট হওয়া উচিত। এমন প্রস্তাবের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য স্কটিশ পার্লামেন্টে তাদের ভোট দিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়া ও একক বাজার সুবিধার অবস্থার প্রেক্ষাপটে এমন গণভোট স্কটল্যান্ডের জনগণের সিদ্ধান্ত জানার জন্য, তারা স্বাধীন একটি দেশ চায়। এর মধ্য দিয়ে আমাদের নিজেদের পথ বেছে নিতে সক্ষম হবো। যুক্তরাজ্যের অন্যান্য জাতির সঙ্গে সমান অংশীদারিত্বের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে নেবো। স্কটল্যান্ডের পার্লামেন্ট ২০১৭ সালের ২৮শে মার্চ যে প্রস্তাব পাস করেছে তার একটি কপি সংযুক্ত করে দেয়া হলো।
স্কটল্যান্ডের জনপ্রিয় সার্বভৌমত্বের দাবিতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্কটিশ পার্লামেন্ট। স্কটল্যান্ড চায় তাদের নিজস্ব সরকার, যে সরকার তাদের সব চাহিদা পূরণ করতে পারবে। আমার সরকার গত মে মাসের নির্বাচনে যে মেনিফেস্টোতে ক্ষমতায় এসেছে তার প্রতি স্পষ্ট সমর্থন রয়েছে স্কটিশদের।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে, স্কটল্যান্ড অ্যাক্ট ১৯৯৮-এর সেকশন ৩০ এর অধীনে আমাদের সরকারগুলোর মধ্যে আগেভাগে আলোচনা শুরু করার জন্য আমি লিখছি, যাতে তারা একটি অর্ডারে সম্মত হতে পারে। সেকশন ৩০ এর ধীনে স্কটিশ পার্লামেন্ট বৈধভাবে গণভোটকে বৈধতা দেবে। আমি অবশ্যই আপনার সরকারি অবস্থানের বিষয়টি মাথায় রেখেছি ও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করেছি। দৃশ্যত আমরা প্রয়োজনীয় সব বিষয়ে চুক্তির অধীনে রয়েছি।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমরা সম্মত হয়েছি, এখনই গণভোটের সময় নয়। সোমবার আপনি আমাকে নিশ্চয়তা দিয়েছেন এবং আপনার অনুচ্ছেদ ৫০ সক্রিয় করা বিষয়ক চিঠিতে বার বার বলেছেন, ২০১৯ সালের মার্চের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যকে বের করে আনবেন এবং একটি বাণিজ্যিক চুক্তি করবেন। একই সময়ে অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের সম্মতি নেবেন। অন্যভাবে বলা যায়, আগামী বছরের শরৎ থেকে ২০১৯ সালের বসন্তের মধ্যে এ কাজ করবেন। যেমনটি আপনি জানেন, স্কটিশ পার্লামেন্টও এই সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে গণভোটের জন্য।
Share on Google Plus

About বাংলা খবর

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment