মৌলভীবাজারে অপারেশন ম্যাক্সিমাস

মৌলভীবাজার শহরের বড়হাটের জঙ্গি আস্তানায় চলছে অপারেশন ম্যাক্সিমাস। গতকাল দিনভর অভিযান চলার পর বিকালে অভিযান স্থগিত করা হয় আলো স্বল্পতার জন্য। অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, আজ সকাল থেকে ফের অভিযান শুরু হবে। গতকাল অভিযান চলাকালে ওই বাড়ি ঘিরে দফায় দফায় গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। অভিযান চলার সময় একজন পুলিশ সদস্য কয়ছর আহমদ (৩০) আহত হয়েছেন। কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন আবহাওয়া ভালো থাকলে আজ সকাল থেকেই অভিযান শুরু হবে। গতকাল সকাল থেকেই জঙ্গি আস্তানা বড়হাটের আশপাশে মাইকিং করে পুলিশের পক্ষ থেকে এলাবাসীকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের কথা জানানো হয়। বলা হয় বাসার দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখতে। পৌর এলাকার ৬নং ওয়ার্ডের স্থানে স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বাড়ানো হয়। আমর্ড পুলিশ, সোয়াত, র‌্যাবের ফোর্স বাড়ানো হয়। পুলিশের এপিসি নিয়ে যাওয়া হয় জঙ্গি আস্তানার কাছে। সকাল পৌনে দশটার পর থেকে মুহুর্মুহু গুলির শব্দ শুনা যায়। মাঝে মধ্যে বিস্ফোরণের শব্দও আসে।
পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বড়হাটের সামনে সিলেট-ঢাকা সড়ক দিয়ে যান চলাচল কমিয়ে দেয়। সংবাদ কর্মীদের ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ঢাকা-সিলেট সড়ক পর্যন্ত যেতে দেয়া হয়। সকাল ১১টার দিকে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালালকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। এই সময় তিনি বলেন এই আস্তানায় প্রচুর বিস্ফোরণ মজুদ আছে এমন তথ্য তাদের কাছে আছে। একজন এক্সপার্টও এই আস্তানায় অবস্থান করছে। দুই দিনে জঙ্গিরা দুটি আইইডি (ইম্প্রোবাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) ফুটিয়েছে। তা ছাড়া যে বাসায় জঙ্গিরা অবস্থান করছে সেই বাসায় বেশ কিছু কক্ষ রয়েছে। তাই অপারেশন একটু জটিল। এই সময় মনিরুল ইসলাম ঘোষণা করেন, এই জটিল অপারেশনের নাম “অপারেশন ম্যাক্সিমাস।” এদিকে গতকাল দুপুর পৌনে একটার সময় জঙ্গিদের আস্তানার কাছে একজন দায়িত্ব পালনের সময় মডেল থানার পুলিশ কনস্টেবল কাওসার আহত হয়েছেন। তাকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি করা হযেছে। পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন জঙ্গি আস্তানায় গ্যাস ছোড়ার পর জানালার গ্লাসের কাচের টুকরা এসে তার ওপর পড়ে। এতে তিনি আহত হন। মাঝখানে কিছু সময় গুলির শব্দ শুনা যায়নি। বিকাল সাড়ে চারটা থেকে গুলি ও বোমার শব্দ শুনা যায়। থেমে থেমে পৌনে ছ’টা পর্যন্ত চলে।
নাসিরপুরের আস্তানায় সাত লাশ: এদিকে নাসিরপুর জঙ্গি আস্তানার  অভিযান ‘হিট ব্যাক’ সমাপ্তের পর সেখান থেকে ৭টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অকিল উদ্দিন। এগুলোর সুরতহাল রিপোর্ট করার পর বিকালে লাশের ময়না তদন্ত হয়েছে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে। মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. পার্থ সারথী জানান, লাশগুলোতে মোটা তারের টুকরোর মতো ধাতব বস্তু পাওয়া গেছে। লাশগুলো এখানে আনার দু-একদিন আগেই তাদের মৃত্যু হয় বলে মনে হচ্ছে। পচনও ধরেছে, তবে তাদের চেহারা বোঝা যাচ্ছে। প্রাপ্ত বয়স্ক তিনজনের পেটের অংশের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য প্রতিটি লাশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এই ময়নাতদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছিল। তাঁরা হলেন- সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট সুব্রত কুমার রায়, জুনিয়র কনসালট্যান্ট আবু ইমরান এবং আরএমও পলাশ রায়। বিকালে আরএমও ডা. পলাশ রায় জানিয়েছেন সুইসাইডাল বোম্ব ব্লাস্টের কারণে এদের মৃত্যু হয়েছে। লাশের পেটের নিচ অংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। তিনি জানিয়েছেন এর মধ্যে ২৫ বছর ও ৩০ বছর বয়সী ২ মহিলা, ১১ বছর ও ১২ বছর ও ২ মাসের শিশুর লাশ রয়েছে। সন্ধ্যা ৭টায় কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে  জানিয়েছেন আলোক স্বল্পতার কারণে অপারেশন ম্যাক্সিমাস স্থগিত করা হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে শনিবার সকালে আবার শুরু হবে।
Share on Google Plus

About বাংলা খবর

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment