সিলেটের জঙ্গি আস্তানায় সেনা অপারেশন by ওয়েছ খসরু

অপারেশন টোয়াইলাইট। সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডোরা সিলেটের জঙ্গিবাড়ি আতিয়ার ভিলায় এ অপারেশনে নামে গতকাল সকালে। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই এ জঙ্গি আস্তানা ঘিরে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা। দিনভর অভিযান চালিয়ে আতিয়ার ভিলা থেকে ৭৮ বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়। কমান্ডোদের অভিযান চলাকালে বিকালে ঘটনাস্থল থেকে গুলি ও বোমার শব্দ শোনা যায়। অভিযান শেষে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর আইএসপিআর-এর  পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ রাশিদুল হাসান মানবজমিনকে বলেন, এই অভিযান সম্পূর্ণভাবে সেনাবাহিনী পরিচালনা করেছে। শনিবার সকাল ৯টার দিকে এ অভিযান শুরু হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে  সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দল কয়েকটি গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থলে  পৌঁছে। অভিযানের কারণে সিলেট- ফেঞ্চুগঞ্জ সড়ক বন্ধ করে দেয়া হয়। এছাড়া শিববাড়ি এলাকার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়। এমনকি জনসাধারণ ও সংবাদকর্মীদেরও ওই এলাকা থেকে এক কিলোমিটার দূরে সরিয়ে নেয়া হয়। সকালে প্যারা কমান্ডোদের অভিযান শুরুর পর ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। বৈরী আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে কমান্ডোরা ভবনের নিয়ন্ত্রণ নেন। তারা একের পর এক ভবনে আটকে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনেন। এসময় ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও সক্রিয় ছিলেন। দুপুর ২টার আগে  মোট ৭৮ জনকে বের করে আনা হয়। তাদের কাছের একটি ভবনে জড়ো করে রাখা হয়। ওই দুই বাড়ির মধ্যে পাঁচতলা ভবনটিতে ৩০টি ফ্ল্যাটে তারা অবস্থান করছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান শুরু হলে তারা আর ভবন থেকে বের হতে পারেননি। ভবনে অবস্থানরত সাধারণ বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়ার পর জঙ্গিদের আস্তানায় অভিযান শুরু হলে বাইরে থেকে গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। দুপুর ২টার আগ পর্যন্ত দুইবার গুলির শব্দ পাওয়া গেলেও এরপর মুহুর্মুহু গুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল। ২টা ৭ ও ২টা ১০ মিনিটে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। এরপর পৌনে এক ঘণ্টায় অন্তত ছয়বার বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। বিকাল ৫টায় আবার দুটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। এরপর গুলির শব্দও আসে। অভিযান শুরুর আগে ওই এলাকার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। ফায়ার ব্রিগেডের দুটি গাড়ি রাতেই ঘটনাস্থলে এনে রাখা হয়েছিল। সকালে সাঁজোয়া যান ও অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে আসা হয় সেখানে।
শিববাড়ি পাঠানপাড়া এলাকার এক ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন পাঁচতলা ও চারতলা ভবন দুটি ঘিরে বৃহস্পতিবার রাত ৩টা থেকে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই ভবন দুটির একটিতে জঙ্গিদের অবস্থান নিশ্চিত হয়েই অভিযান চালানো হয়। অভিযানের শুরুতে সেখানে গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে অভিযান স্তিমিত করে ঢাকা থেকে সোয়াত সদস্যদের সেখানে নেয়া হয়। সেখানে ছুটে যান কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলামও ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেনাবাহিনীর একটি প্যারা কমান্ডো দল রাতে ঘটনাস্থলে যায়। সকালে আরেকটি দল যাওয়ার পর পুরো অভিযানের দায়িত্ব নেন কমান্ডোরা। এরপরই শুরু হয় চূড়ান্ত অভিযান।
শুক্রবার অভিযান চলাকালে পুলিশের পক্ষ থেকে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করতে আহ্বান জানানো হলেও তারা সাড়া দেয়নি। জঙ্গিরা পাল্টা জবাবে  সোয়াতকে ঘটনাস্থলে পাঠাতে বলে। জঙ্গিরা বলে, দ্রুত অভিযান শুরু করতে। তাদের সময় কম। পরে বাড়তি সতর্কতার অংশ হিসেবে চূড়ান্ত অভিযানে যায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আবদুল মান্নান জানান, সিলেটে জঙ্গি আস্তানা থাকার তথ্য পাওয়ার পর তাদের সদস্যরা সিলেট পুলিশকে নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান চালাচ্ছিল। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে শিববাড়ির ওই ভবনের সন্ধান পান তারা। বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে পুলিশ সদস্যরা ওই ভবন ঘিরে ফেলে প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন।
Share on Google Plus

About বাংলা খবর

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment