লক্ষ্মীপুরে নৌকায় ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী by মো. আব্বাস হোসেন

লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় আগামী নির্বাচনে নৌকায় ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বিএনপি-জামায়াতকে ভোট দিলে দেশে সন্ত্রাস হয়। আর আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে উন্নয়ন হয়। ইতিমধ্যে এটি প্রমাণিত হয়েছে। লক্ষ্মীপুরের মানুষ অতীতে জামায়াত-বিএনপির অত্যাচার-নির্যাতনের চিত্র দেখেছে। তখন এখানে উন্নয়ন হয়নি। উন্নয়ন যা হচ্ছে তা আওয়ামী লীগের আমলে। মঙ্গলবার বিকালে লক্ষ্মীপুর স্টেডিয়ামে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় অংশ নেয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী ২৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক টিংকুর সভাপতিত্বে দুপুর সাড়ে ১২টায় জনসভা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নূর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের সঞ্চালনায় সভায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হম শামীম, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের এমপি একেএম শাহজাহান কামাল, পৌর মেয়র আবু তাদেরসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন। 
সমাবেশকে ঘিরে জেলা সদরে ছিল সাজসাজ রব। সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে সমাবেশে আসতে থাকেন। সমাবেশ শুরুর আগেই জেলা স্টেডিয়াম কানায় কানায় ভরে যায়। সমাবেশকে ঘিরে পুরো জেলা শহরে ছিল নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা।
প্রধানমন্ত্রী জনসভায় প্রায় এক ঘণ্টা বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, আমি এদেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে কাজ করছি। এদেশের মানুষের জন্য আমি আমার জীবন উৎসর্গ করেছি। তিনি বলেন, আমার আর কোনো চাওয়া পাওয়া নেই। এই দেশের মানুষের জন্য আমার বাবা-মা, ভাই জীবন দিয়েছেন। যদি প্রয়োজন হয় বাবার মতো নিজের জীবন দিয়ে হলেও আমি বাংলার মানুষের উন্নয়ন করে যাবো। তিনি বলেন, আমরা চাই দেশে একটি মানুষও ভূমিহীন ও গৃহহীন না থাকুক। এজন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। যাদের ঘর নেই আমরা সরকারি অর্থে তাদের ঘর করে দেবো। লক্ষ্মীপুরের প্রশাসনকেও আমি সেই নির্দেশ দিয়েছি। আমরা ১০ টাকা কেজিতে ৫০ লাখ পরিবারকে খাদ্য দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে মানুষ যাতে শান্তিতে খেয়ে বাঁচতে পারে। ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শিখবে। এজন্য আমরা বিনামূল্যে বই দিচ্ছি। এখন আর কোনো বাবা-মাকে বই কেনার চিন্তা করতে হয় না। তিনি বলেন, আমরা দেশের প্রত্যেক এলাকার উন্নয়ন করে যাচ্ছি। দেশে ছয় কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। ১৩ কোটি মানুষ মোবাইলফোন ব্যবহার করছে। আমরা প্রতিটি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন করে দেবো। প্রতি উপজেলায় সরকারি কলেজ করে দেবো। প্রত্যেক জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় হবে। লক্ষ্মীপুরে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় করার আমাদের পরিকল্পনা আছে।
সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মসজিদের ইমাম, শিক্ষক, পেশাজীবীসহ প্রত্যেককে বলবো, আপনারা সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখুন। জঙ্গিবাদ ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়। কেউ মানুষ হত্যা করে বেহেশতে যেতে পারবে না। মানুষ মারলে দোজখে যেতে হবে।
উপস্থিত নেতাকর্মী ও জনসাধারণের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা আওয়ামী লীগের ওপর ভরসা রাখবেন। আগামীতে যত নির্বাচন আসে তাতে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিজয়ী করে উন্নয়ন অব্যাহত রাখার সুযোগ দেবেন। এটিই আমি চাই। এ সময় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত জনসাধারণকে হাত তুলে নৌকার পক্ষে সমর্থন জানান দেয়ার কথা বললে সবাই হাত তুলে নৌকার পক্ষে স্লোগান দেন।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তার বক্তব্যে বলেন, বিএনপির ধানের শীষ এখন মানুষের পেটের বিষে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, এখন তিস্তা চুক্তি সময়ের ব্যাপার মাত্র। বিএনপির রাজনীতি ক্ষমতা গেলে ভারতপ্রীতি, বিরোধী দলে থাকলে ভারতবিদ্বেষী। লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দলীয় কোন্দল মেটাতে হবে। কেউ যদি দলে থেকে অপকর্ম করে তাহলে তার খবর আছে। কেউ কোনো পকেট কমিটি দিলেও খবর আছে। উন্নয়ন করবেন শেখ হাসিনা, আপনাদের কাজ মানুষকে খুশি করা।
Share on Google Plus

About Coxs Bazar

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment