মিজারুল কায়েসের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা



কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও রাষ্ট্রদূত মিজারুল কায়েসের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন সর্বস্তরের মানুষ। গতকাল সকাল সোয়া ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার মরদেহ আনা হয়। রোববার (১৯শে মার্চ) রাতে তার মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সারিবদ্ধভাবে ফুল দিয়ে মিজারুল কায়েসের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ‘শিল্প ভুবনের প্রিয়জন ও মেধাবী কূটনীতিক মিজারুল কায়েসের প্রতি জাতির শ্রদ্ধাঞ্জলি’ শিরোনামে এ শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করে। এটি সঞ্চালনা করেন জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস। এর আগে সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মসজিদে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী,  পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখান থেকে সকাল সোয়া ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয় লাশ। ১২টা পর্যন্ত সর্বস্তরের মানুষ তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
গতকাল সকালে মিজারুল কায়েসের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌঁছালে প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার সহকারী সামরিক সচিব লে. কর্নেল সাইফুল্লাহ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করে ৮২ বিসিএস ফোরাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকাস্থ পাকুন্দিয়া সমিতি, ঢাকা কলেজ, বিশ্ব সাহিত্যকেন্দ্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ, রেইবো চলচ্চিত্র সংসদ, সাওল হার্ট সেন্টার, বাংলাদেশ আবৃত্তি সংসদ, জাতীয় কবিতা পরিষদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, জাসদসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।
শ্রদ্ধা জানানো শেষে মিজারুল কায়েসকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করেন বিভিন্ন পেশাজীবী ও তার স্বজনরা। ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ভিসি  অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, তিনি (মিজারুল কায়েস) সাহিত্য-শিল্প চেতনার মানুষ ছিলেন। তার সঙ্গে আড্ডায় শিল্পী সমাজ হাসি ঠাট্টায় প্রাণ পেতো। সাবেক রাষ্ট্রদূত আনোয়ারুল আলম বলেন, মিজারুল কায়েস একজন আদর্শবান দেশপ্রেমিক। নীতির সঙ্গে তিনি কখনো আপোষ করেননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, একজন দক্ষ ও যোগ্য আমলা ছিলেন মিজারুল কায়েস। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে সমুন্নত রাখতে তিনি সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন। নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, এমন মেধাবী মানুষ জীবনে দেখিনি। আমার বিশ্বাস ভবিষ্যতেও দেখবো না। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ কূটনীতিক মিজারুল কায়েসকে যতটুকু ব্যবহার করা দরকার ততটুকু ব্যবহার করেনি। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম বলেন, মিজারুল কায়েস একজন মেধাবী, দক্ষ কূটনীতিক ছিলেন। উদ্দীপ্ত এমন একজন মানুষ এভাবে শুয়ে আছেন ভাবতে কষ্ট হচ্ছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী বলেন, মিজারুল কায়েস সংস্কৃতিমনা ছিলেন। এ ধরনের কাজে যখনই তার সাহায্য চেয়েছি কখনো খালি হাতে ফিরিনি। মিজারুল কায়েসের বোন ফাহমিদা মঞ্জিল ও ভাই মেজর জেনারেল (অব.) ইমরুল কায়েসও তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করেন। শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানো শেষে গুলশানের আজাদ মসজিদে মরহুমের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আজ সকালে তার জন্মস্থান কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় তৃতীয় জানাজা হবে। সেখান থেকে ফিরে বিকালে বনানী কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে মিজারুল কায়েসকে শায়িত করা হবে। এদিকে কূটনীতিক মিজারুল কায়েসের স্মরণে পরিবার ও বন্ধুদের উদ্যোগে ২৪শে মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ২৩শে মার্চ শাহীন অডিটোরিয়ামে কুলখানি অনুষ্ঠিত হবে।
গত ১১ই মার্চ রাতে ব্রাজিলের একটি হাসপাতালে মারা যান সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও পরবর্তীতে ব্রাজিলে বাংলাদেশের নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মিজারুল কায়েস।
Share on Google Plus

About Nejam Kutubi

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment