খালেদা জিয়ার রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার কার্যক্রম ছয় মাস স্থগিত

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে করা মামলার বিচারিক কার্যক্রমের ওপর ছয় মাসের স্থগিতাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নিম্ন আদালতে এই মামলার অভিযোগ আমলে নেয়ার আদেশ কেন বাতিল বলে ঘোষণা করা হবে না- এ মর্মে রুল জারি করেছেন আদালত। এ মামলার বিষয়ে খালেদা জিয়ার করা এক আবেদনের শুনানি শেষে গতকাল বিচারপতি মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি এ এন এম বসির উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে হাইকোর্টের আদেশে। এ মামলায় নিম্ন আদালতে অভিযোগ আমলে নেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চলতি বছরের ৫ই জানুয়ারি আইনজীবীদের মাধ্যমে হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদা জিয়া। আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত গতকাল এ আদেশ দেন। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সিনিয়র আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন ও জাকির হোসেন ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ এ কে এম মনিরুজ্জামান কবীর।
২০১৫ সালের ২১শে ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক সমাবেশে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা  জিয়া। তার এই বক্তব্যে ‘দেশদ্রোহী’ মনোভাবের অভিযোগ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অনুমোদনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। ২০১৬ সালের ২১শে জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অনুমোদন দেয়। পরে ২৪শে জানুয়ারি ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা করেন মোমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী। বর্তমানে মামলাটি অভিযোগ গঠনের শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। এ মামলায় আগামী ১০ই এপ্রিল খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
Share on Google Plus

About বাংলা খবর

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment