ঐতিহাসিক দিনে উজ্জ্বল বাংলাদেশ

ল্যান্ডমার্ক ম্যাচে শুরুটা ছিল টাইগার বোলারদের। ভক্তদের নজর এবার টাইগার ব্যাটসম্যানদের দিকে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম দিনে গতকাল উৎসবের আমেজেই মাঠে নামেন টাইগাররা। টস জিতে ব্যাটিংয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। আর ২৩৭/৭ সংগ্রহ নিয়ে দিনের খেলা শেষ করে স্বাগতিক লঙ্কানরা। গতকাল দিনের শুরুটা ছিল বাংলাদেশের রেকর্ডগড়া। বল হাতে বাংলাদেশের শুরুর তিন ওভার ছিল মেডেন। আগের ৯৯ টেস্টে বাংলাদেশের এমন নজির ছিল না। এতে আরো একবার বাংলাদেশের ‘শুরুর নায়ক’ মোস্তাফিজুর রহমান। নিজের শুরুর ৬ ওভারের স্পেলে  আগুনঝরা বোলিংয়ে স্বাগতিকদের কোণঠাসা করে রাখেন মোস্তাফিজ। বাংলাদেশের এ কাটার মাস্টারের ডেলিভারিতে উইকেট খোয়ান লঙ্কান ওপেনার দিমুথ করুনারত্নে। ব্যস, লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের চেপে ধরেন টাইগাররা। আর ১৯৫ রানে সাত উইকেট খুইয়ে চাপ বাড়ে লঙ্কান শিবিরে। বাংলাদেশের ল্যান্ডমার্ক ম্যাচ উপলক্ষে বিশেষ আয়োজনে শুরু হয় দিনটি। নিজেদের ১০০তম টেস্টে গতকাল কলম্বোর পি সারা ওভাল মাঠে টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নামে বাংলাদেশ। আর বল হাতে বাংলাদশ দলের পাঁচ বোলারই পান উইকেট সাফল্য। অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ও পেসার মোস্তাফিজুর রহমান নেন দুটি করে উইকেট। এক উইকেট নেন অপর পেসার শুভাশিস রায়। একটি করে উইকেট নেন দুই বাঁ-হাতি স্পিনার সাকিব আল হাসান ও তাইজুল ইসলাম। তবে শ্রীলঙ্কার ব্যাট হাতে দৃঢ়তা দেখান দিনেশ চান্ডিমাল। দিন শেষে ৮৬ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। এতে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে ৫০০ রান পূর্ণ হয় চান্ডিমালের। বাংলাদেশের বিপক্ষে ৫০০ রানের কৃতিত্ব দেখানো ব্যাটসম্যানদের মধ্যে পঞ্চম সেরা গড় চান্ডিমালের।  এমন তালিকার শীর্ষে পাকিস্তানের মোহাম্মদ ইউসুফ। ২০০১ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত পাঁচ ইনিংসে মোহাম্মদ ইউসুফ করেন ৫০৩ রান। সর্বোচ্চ ২০৪*। এতে বাংলাদেশের বিপক্ষে তার রানের গড় ২৫১.৫০। গতকাল কলম্বোয় দিনেশ চান্ডিমাল যখন ক্রিজে যান তখন শ্রীলঙ্কার স্কোর বোর্ডে শোভা পাচ্ছে ১২ ওভারে ২৪ রান। আর ৭০/৪ সংগ্রহ নিয়ে লাঞ্চে যায় শ্রীলঙ্কা। পরের পুরো এক সেশনে ব্যাট হাতে সংযম দেখান দিনেশ চান্ডিমাল। লাঞ্চের পরের সেশনে কোনো বাউন্ডারির মার ছিল না চান্ডিমালের ব্যাটে। ২১০ বলের ইনিংসে চান্ডিমাল চার হাঁকান মাত্রই চারটি। পি সারা ওভাল মাঠে টস জিতে ব্যাটিং বেছে নেন লঙ্কান অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথ। যদিও পি সারা ওভালের উইকেটে আগে বোলিং নেয়া দলের জয়ের ঘটনা রয়েছে নয়বার। বল হাতে শুরুর তিন ওভারে মেডেন তুলে নেন মোস্তাফিজ ও শুভাশিস। লঙ্কান ইনিংসের ৮.৪তম ওভারে মোস্তাফিজের অফস্টাম্পের বাইরের ডেলিভারি ক্রস ব্যাট হাঁকাতে যান করুনারত্নে। ব্যাটের কানা নিয়ে ক্যাচ যায় গালিতে। অসাধারণ দক্ষতায় তা লুফে নেন মিরাজ। ১১.৫তম ওভারে মিরাজের অফস্পিনে স্টাম্পিং আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন প্রথম টেস্টের ম্যাচ সেরা খেলোয়াড় কুসাল মেন্ডিস। অল্প বিরতিতে ফের আঘাত হানেন মিরাজ। ১৫.২তম ওভারে প্রথম টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান উপুল থারাঙ্গাকে স্লিপে দারুণ ক্যাচ নিয়ে সাজঘরে ফেরান সৌম্য সরকার। আর ২৭.৪তম ওভারে শুভাশিস রায়ের এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন আসেলা গুনারত্নে। এতে ৭০/৪ সংগ্রহ নিয়ে লাঞ্চে যায় শ্রীলঙ্কা। তবে পঞ্চম ও ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে চাপ সামাল দেন লঙ্কানরা। পঞ্চম উইকেটে ৬৬ রানের জুটি গড়েন চান্ডিমাল ও ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা। ধনাঞ্জয়াকে সরাসরি বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান তাইজুল। ষষ্ঠ উইকেটে চান্ডিমাল-নিরোশান ডিকওয়েলার ৪৪ রানের জুটি ভাঙেন অপর বাঁ-হাতি স্পিনার সাকিব আল হাসান। গতকাল সাকিব আল হাসানের ডেলিভারিতে আম্পায়ারের দেয়া আউটের সিদ্ধান্তে রিভিউ নিয়ে লঙ্কানদের বেঁচে যেতে দেখা যায় তিন তিনবার। একাদশে চারটি পরিবর্তন নিয়ে দ্বিতীয় টেস্টে খেলছে বাংলাদেশ। ইনজুরির কারণে বাদ পড়েছেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাস। বাংলাদেশের শততম টেস্টের  একাদশে  জায়গা পাননি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মুমিনুল হক ও তাসকিন আহমেদ। এতে দলে সুযোগ পান ইমরুল কায়েস, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন  সৈকত ও তাইজুল ইসলাম। গতকাল টেস্ট অভিষেক হয় মোসাদ্দেক হোসেনের। প্রথম টেস্টে তামিম-সাকিবের ব্যাটে প্রত্যাশা মেটেনি ভক্তদের। প্রথম ইনিংসে ৫৭ রান করলেও দ্বিতীয় দফায় ১৯ রানে উইকেট খোয়ান ওপেনার তামিম। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েলিংটন টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরির কৃতিত্ব দেখান সাকিব। আর গল টেস্টের দুই ইনিংসে সাকিবের সংগ্রহ ২৩ ও ৮। গল টেস্টে হার দেখা বাংলাদেশের দুই ইনিংসে সংগ্রহ ছিল ৩১২ ও ১৯৭।
Share on Google Plus

About Coxs Bazar

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment