বঙ্গবন্ধু জনগণের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু এদেশের স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। এখন এই স্বাধীনতাকে রক্ষা করার দায়িত্ব দেশবাসীর। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু এ দেশের জনগণের স্বাধীনতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন। এখন এই স্বাধীনতাকে রক্ষা করার দায়িত্ব দেশবাসীর।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘কারাগারের রোজনামচা’ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলা একাডেমীর উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ৩৩২ পৃষ্ঠার এই বইতে বঙ্গবন্ধুর ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত কারাগারে অন্তরীণ থাকার সময়কার দৈনন্দিন ডায়েরি আকারে লেখনী স্থান পেয়েছে। এমিরেটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ অনোয়ার হোসেন এবং অধ্যাপক মুনতাসির মামুন বইটির ওপর আলোচনায় অংশ নেন।
সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জাসান নূর বইটির কিয়দংশ অনুষ্ঠানে পড়ে শোনান এবং বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা,বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও মিডিয়ার সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু সবসময়ই রবীন্দ্রনাথের একটি কবিতা আবৃত্তি করতেন ‘উদয়ের পথে শুনি কার বাণী, ভয় নাই ওরে ভয় নাই। নি:শেষে প্রাণ যে করিবে দান ক্ষয় নাই তাঁর ক্ষয় নাই।’ উদাত্ত কন্ঠে তিনি এই উচ্চারণটা সবসময় করতেন। আজকে এটাই তাঁর জীবনে বাস্তব হলো-নি:শেষে প্রাণটা তিনি দিয়ে গেলেন কিন্তু তাঁকে যারা ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল,পারল না। তিনি সেই ইতিহাসে আবারো ফিরো এসেছেন এবং এই বাংলার মাটিতে আবার ফিরে এসেছেন। আর আমার একটাই কাজ তাঁর বাংলাদেশকে সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলা।
তিনি বলেন, আরেকটা কাজ আমি করেছি-যে এখানে অনেকের কথা তিনি (বঙ্গবন্ধু) লিখেছেন। অনেক ভালো ভালো কথা লিখেছেন, কিন্তুু এর মধ্যে অনেকেইতো পরে বেঈমানী করে চলে গেছে। কিন্তু যার সম্পর্কে তিনি যা লিখেছেন সে লেখায় আমি কোন হাত দেইনি। একটি কথাও কাটিনি ঠিক সেইভাবেই আছে। এরমধ্যেই অনেকেই বেঁচে নেই আবার অনেকেই বেঁচে আছেন যাই হোক এখন এগুলো পড়লে তারাই লজ্জা পাবে কিনা আমি জানি না। কিন্তুু তিনি যাকে যেভাবে দেখেছেন,বর্ননা দিয়েছেন, যেভাবে ভালকথা লিখেছেন সব হুবহু ঐভাবেই রেখে দিয়েছি। কারণ সকল মানুষের সত্য কথাটা জানা উচিত। আর এত সাহস আমার নেই যে তার লেখায় হাত দেব। কাজেই তিনি যেভাবে লিখেছেন সেভাবেই আমরা তা রাখার চেষ্টা করেছি।
শেখ হাসিনা বলেন, যখন একটু কাজ করি যখনই একটু ভালো কাজ হয়-তখন কেবল এটুকুই মনে হয় আমার আব্বা আজ বেঁচে নেই, উনি বেঁচে থাকলে বোধহয় আরো অনেক মানুষ উন্নত জীবন পেত। কিন্তু আজকে তিনি বেঁচে নাই যদি একটু ভালো কাজ করি তাঁর আত্মাটা শান্তি পাবে, তিনি নিশ্চয়ই দেখেন। তিনি নিশ্চয়ই জানেন। তিনি নিশ্চয়ই এটা উপলদ্ধি করতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই লেখার মধ্যদিয়ে আপনারা অনেক কিছু জানতে পারবেন। তবে, এখানেই শেষ নয় তাঁর লেখা আরো আছে। সেগুলোও আমরা ধীরে ধীরে প্রকাশ করবো। সেগুলোও মোটামুটি প্রস্তুুত। ২০২০ বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপনের পূর্বেই আমরা এই লেখাগুলো প্রকাশ করবো। সেইসাথে বঙ্গবন্ধু কারাগারে থাকাকালে পুলিশের এসবি’র (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) যে রিপোর্ট,বহু নেতাদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট, আমি অনেকের রিপোর্ট নিয়ে এসে দেখেছি। কিন্তু আপনারা শুনলে অবাক হবেন যে, একজন মানুষ তাঁর বিরুদ্ধে ৪৮ থানার মত ফাইল,৩০/৪০ হাজার পাতা । কিন্তু বিরুদ্ধে লেখা হলেও এরমধ্য দিয়ে একদিকে যেমন তাঁর জীবনীটা পাওয়া যায় তেমনি বাংলাদেশের অভ্যুত্থানের তথ্যও জানা যায়। সেটাও আমরা তৈরী করেছি। সেটারও কাজ চলছে। সেটা ডিক্লাসিফাইড করে দিয়েছি। এটাকে আগে আমরা একটি ডকুমেন্ট হিসেবে ছাপাবো ও বের করবো। সেখানে মূল কথাগুলো যেন থাকে তাঁর প্রতি লক্ষ্য রাখা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঐ বইয়ে কিভাবে বঙ্গবন্ধু কাজ করেছেন, কিভাবে রাজনৈতিক দলটা তিনি গড়ে তুলেছেন, কিভাবে সমগ্র বাংলাদেশ ঘুরে বেড়িয়েছেন-সবকিছুই সেখানে সুন্দরভাবে লেখা আছে। শীগ্রই সেটা আমরা প্রকাশ করবো। সেইসাথে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে একশ অভিযোগ আনা হয় এবং সেখান থেকে দুটি অভিযোগ দিয়ে মামলা করা হয়। সে ডকুমেন্টও আমরা প্রকাশ করবো। বাংলাদেশের ইতিহাস যারা জানতে চাইবে তারা হয়তো এই ডকুমেন্টগুলো পড়লেই জানতে পারবে।
তিনি বলেন, আজকে রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে যখন কোন কাজ করতে যাই-তখন দেখি তিনি (বঙ্গবন্ধু) প্রতিটি ক্ষেত্রে সবকিছুইতো কতে দিয়ে গেছেন- একটি স্বাধীন দেশই শুধু দিয়ে যাননি একটি স্বাধীন দেশের উপযোগী করে সকল প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে দিয়ে গেছেন। আইনগুলো করে দিয়ে গেছেন, শুধু বাস্তবায়ন করা, একে একে আমরা সাধ্যমতো তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে যাচ্ছি।
Share on Google Plus

About বাংলা খবর

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment