জঙ্গিদের তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দিন




নিজ নিজ এলাকার জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে তুলে দিতে দলের নেতাকর্মী ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান হবে না। তাই সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে আমি অহ্বান জানিয়েছি। আমি আমাদের নেতাকর্মীদেরও বলবো, আপনাদেরকেও সেভাবে সজাগ থাকতে হবে। যে যেখানে বসবাস করেন, যার যার নিজ নিজ এলাকায় কোনো জঙ্গি-সন্ত্রাসী আছে কী না। সঙ্গে সঙ্গে সেই তথ্য আপনাদের সংগ্রহ করতে হবে এবং সেটা আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে তুলে দিতে হবে। কারণ এই দেশে কোনো জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস হোক আমরা তা চাই না। গতকাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জঙ্গি দমনে সরকারের দৃঢ়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা যে কোনো অবস্থা মোকাবিলা করতে জানি। কারণ, আমাদের সততার জোর আছে, সততার শক্তি আছে। একজন রাজনীতিবিদের জন্য এই সততাটাই হচ্ছে সব থেকে বড় শক্তি। সততার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করছি বলেই বাংলাদেশের উন্নতি হচ্ছে। জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ আমাদের করতে হবে। সেই আদর্শ নিয়েই আমরা রাষ্ট্র পরিচালনা করছি।
তিনি বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে তো ষড়যন্ত্রের অভাব নেই। সেই পদ্মা সেতু নিয়ে একটা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। পিতার আদর্শ থেকে রাজনীতি শিখেছি। জনগণের জন্য যেখানে যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত সেখানে মিথ্যা, দুর্নীতির অভিযোগ এনে...আমাদেরকে ভয় দেখাবে...আমি তো সে রকম বাবার সন্তান না। আমি শেখ মুজিবের সন্তান। আমিও সে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলাম। আমার বাংলাদেশকে এভাবে হেয় করতে আমরা দেব না।
বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আমরা চাই, জাতির পিতা যে কথা বলেছিলেন, বাংলাদেশ হবে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড। কাজেই বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ একটি উন্নত শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে। এখানে কোনো দারিদ্র্য থাকবে না। কোনো মানুষ গৃহহারা থাকবে না। কোনো মানুষ রোগে কষ্ট পাবে না। প্রত্যেকটা মানুষ তার মৌলিক অধিকার ভোগ করতে পারবে। সেইভাবে আমরা এই দেশটাকে গড়ে তুলতে চাই।
২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের জন্য এখন থেকেই আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। বলেন, ২০২১ সালে আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমরা পালন করবো। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী আমরা উদযাপন করবো। আমি এখন থেকেই আওয়ামী লীগের সকল সংগঠনকে বলবো এ লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিতে।
বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তিনি বলেন, তাঁর জন্ম না হলে এ স্বাধীন বাংলাদেশ আমরা পেতাম না। বঙ্গবন্ধু নিজে ছিলেন স্বাধীনচেতা, তিনি দেশকেও স্বাধীন করেছেন। বাবার স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের এমন কোনো অঞ্চল নেই, যেখানে তিনি না গিয়েছেন। তিনি মানুষের মাঝে আত্মসচেতনতা সৃষ্টি করেছিলেন। অধিকার চেতনা সৃষ্টি করেছেন। দিয়েছেন ছয় দফা; করেছেন কারাবরণ। কোনো লোভ-লালসার কাছে তিনি মাথা নত করেননি।
আলোচনা সভায় সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক রফিকুর রহমান, মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা এ কে এম রহমতউল্লাহ, সাদেক খান, শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।
Share on Google Plus

About Nejam Kutubi

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment