চট্টগ্রামে কুড়িয়ে পাওয়া শিশু ‘একুশ’ নিঃসন্তান শাকিলার

চট্টগ্রামে ডাস্টবিনে ফেলে যাওয়া শিশু একুশকে লালন-পালনের দায়িত্ব পেয়েছেন নিঃসন্তান শাকিলা আক্তার। গতকাল বুধবার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ও শিশুবিষয়ক বিশেষ আদালতের বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌসের আদালতে শিশুটির দায়িত্বভার নির্ধারণ করা হয়।
একুশকে কোলে পেয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে গৃহিণী শাকিলা আক্তার বলেন, ১৯ বছরের সংসার জীবনে কোনো সন্তান না থাকার কষ্টটা এবার মিটে যাবে। একুশকে আমি নিজের মায়ের মতোই লালনপালন করবো। তার কোনো কষ্ট হতে দেবো না।
আদালত সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে ডাস্টবিনে কুড়িয়ে পাওয়া নবজাতক ‘একুশকে’ জিম্মায় কে পাবেন তা নির্ধারণ নিয়ে সর্বশেষ মঙ্গলবার দত্তক নিতে আবেদন করা ১৩ জনের আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় একজন অনুপস্থিত ও বাকি দুই আবেদনকারী শুনানিতে অংশ নেননি। শুনানি শেষে গতকাল বুধবার জিম্মায় দেয়ার আদেশের দিন নির্ধারণ করেন আদালত।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট এমএ ফয়েজ বলেন, শিশু একুশকে দত্তক নিতে আবেদনকারীদের মধ্যে যেসব নারীর মা হওয়ার সম্ভাবনা নেই এবং যেসব দম্পতি নিঃসন্তান তাদের কারও হাতে একুশের দায়িত্ব দিতে অনুরোধ করেছি। গতকাল বুধবার জিম্মা দেয়ার আদেশ দিলেন আদালত।
আদালত শুনানির সমাপ্তি ঘোষণার আগে জানিয়েছিলেন, শিশুটিকে দত্তক দেয়ার এখতিয়ার আদালতের নেই। আদালত শুধু জিম্মায় দেয়ার এখতিয়ার রাখে, তা-ও ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত। এরমধ্যে যদি শিশুটির প্রকৃত মা-বাবা এসে তাদের সন্তানকে জিম্মায় রাখতে সম্মতি দেয় তাহলে ১৮ বছর পর্যন্ত রাখা যাবে।
শিশু আইনের ৬৮ ধারায় আদালতকে জিম্মায় দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এজন্য আদালত দত্তক এবং জিম্মায় দেয়ার বিষয়ে একটা ব্যাখা দিয়েছেন।
আবেদনকারীদের মধ্যে যাদের আবেদনের ওপর শুনানি হয়েছে তারা হলেন, গৃহিণী জেসমিন আক্তার, শিক্ষিকা লুবনা ইয়াসমিন, গৃহিণী শাকিলা আক্তার, আইনজীবী চুমকি চৌধুরী, শাহিদা জাহান, শাহানারা আক্তার, ইয়াসমিন আক্তার, শবনম শারমিন, পুলিশের এসআই পারভিন, গৃহিণী জান্নাতুল ফেরদৌস, ইসরাত জাহান, গুলশান আক্তার এবং মো. সাইফুল্লাহ।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২০শে ফেব্রুয়ারি নগরীর কর্নেলহাট এলাকার লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালের পাশের ডাস্টবিন থেকে উদ্ধার করা হয় একুশকে। এর আগের দিন রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে এ হাসপাতালে শিশু সন্তানটি প্রসব করেন লিপি।
হাসপাতালটির দুই ডাক্তার, তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় একুশের মা লিপি আক্তারের নাম উল্লেখ করে ঠিকানা অজ্ঞাত দেখিয়ে আকবর শাহ থানায় ওসি আলমগীর মাহমুদ বাদী হয়ে অবৈধ গর্ভপাত ও হত্যাচেস্টার অভিযোগে একটি মামলা করেছেন। পুলিশ মা লিপির ঠিকানা বের করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন।
আকবর শাহ থানার ওসি আলমগীর বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে টহলরত পুলিশকে নবজাতক শিশুটিকে উদ্ধারের নির্দেশ দেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে শিশুটিকে এখন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (ইনকিউবেটর) রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। একুশের রাতে উদ্ধার হওয়ায় নবজাতকের নাম ‘একুশ’ রাখেন আকবর শাহ থানার ওসি আলমগীর।
Share on Google Plus

About বাংলা খবর

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment