মাশরাফি নতুন করেই ভাবছেন



শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরু হচ্ছে শনিবার ডামবুলাতে। আর তার আগেই ওয়ানডে লড়াইয়ের দামামা বেজে উঠবে আজ প্রস্তুতি ম্যাচে। কলম্বোর ক্রিকেট গ্রাউন্ডে হবে ম্যাচটি। সীমিত ওভারের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা শ্রীলঙ্কায় পৌঁছেছেন গত শনিবার। সঙ্গে ছিলেন দলের নতুন মুখ স্পিনার সানজামুল ইসলামসহ উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান নূরুল হাসান সোহান ও অলরাউন্ডার শুভাগত হোম। মাঠে বসেই দেখেছেন শততম টেস্ট জয়। তাই মাশরাফির সামনে এখন চ্যালেঞ্জ লঙ্কার মাটিতে নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাস বদলের। গেল দুই বছরে তার নেতৃত্বে টাইগাররা বিশ্ব ক্রিকেটকে বার্তা দিয়েছে ওয়ানডেতে যে কোনো দলকে হারানোর সক্ষমতা আছে তাদের। গতকাল বাংলাদেশ দল বেশ ভালভাবেই অনুশীলন করেছে। সেখানে শুধু উপস্থিত ছিলেন না সহ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও ওপেনার তামিম ইকবাল। ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে নিয়ে প্রত্যাশা এমনিতেই বেশি থাকে সবসময়। শততম  টেস্ট জয়ের পর এবার সেটি বেড়েছে আরো। সেই প্রত্যাশার চাপ নিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘টেস্টের চেয়ে ওয়ানডেতে অবশ্যই প্রত্যাশা বেশি। আমাদের মতো সমর্থকদেরও তাই। লাল বল থেকে সাদা বলে আসা, সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার ব্যাপার। প্রত্যাশা তো অবশ্যই আছে। তার জন্য ভালো  খেলতে হবে।  টেস্টেও আমরা শুরু থেকে ভালো খেলেছি, ফলাফল ভালো হয়েছে।’
এ পর্যন্তু দেশ-বিদেশে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৪ দেখায় বাংলাদেশের জয় মাত্র ৪ ম্যাচে। লঙ্কার মাটিতে ১৬টি ওয়ানডে খেলেছে টাইগাররা। এর মধ্যে হেরেছে ১৪টিতে, একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে আর জয় একটিতে। ২০১৩ সালে পাল্লেকেলেতে প্রথমবারের মতো জিতেছিল বাংলাদেশ। সেবারই প্রথম লঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ ড্র করেছিল তারা। সেই সিরিজে হাম্বানটোটাতে প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন তামিম ইকবাল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়। পরের ওয়ানডেও দুই দল মাঠেই নামতে পারেনি। শেষ ওয়ানডে খেলা হলেও বৃষ্টির হানায় শেষ পর্যন্ত ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে ৩ উইকেটে জয় পায় মুশফিকরা। তাই অতীতের এই সফরকে অনুপ্রেরণা করে মাশরাফির নেতৃত্বে ইতিহাসের পরিবর্তন দেখতে চাইছেন ক্রিকেট ভক্তরা। তবে অধিনায়ক অতীত নয়, ভাবছেন নতুন করেই। তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে পেছনে কী হয়েছে, সেটা থেকে কোনো সাহায্য পাই না। তবে কোনো ক্রিকেটার এখান থেকে অনুপ্রাাণিত হলে অন্য কথা। আমার  ক্ষেত্রে অতীত  থেকে  কোনো কিছু হয় না। আমি আগে অনেক-অনেক ম্যাচ হেরে এসেছি। এর মানে এটা নয় যে, আমি জিততে পারবো না। আমার মনে হয় না ওইটা নিয়ে চিন্তা করার কিছু আছে।’
টাইগারদের নিয়ে ভক্তদের মধ্যে প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে। তাই প্রতিটি ম্যাচেই এই আবেগের চাপ নিয়ে মাঠে নামতে হয় ক্রিকেটারদের। বাংলাদেশের জন্য এখন র‌্যাঙ্কিংয়ের চিন্তাও কম নয়। তবে চাপ নিতে রাজি নন ওয়ানডে অধিনায়ক।  তার ভাবনা এখন দলের পারফরমেন্স নিয়ে। বিশেষ করে ব্যাটিং। তিনি বলেন, ‘যদি ওয়ানডে স্কোয়াড দেখেন, বেশির ভাগ টেস্ট স্কোয়াডের খেলোয়াড়। তারা তাই মানসিকভাবে এগিয়ে থাকবে। কারণ বড় ফরম্যাটে বড় একটা ম্যাচ জিতেছে। তারপরও আমার মনে হয় ব্যাটিংটায় একটু চিন্তা থাকতে পারে। কারণ ওদের কয়েকজন ভালো বোলার আছে। এখন কাজ হবে, আমাদের রান বের করতে হবে। ওদের কিছু ‘ক্রিটিক্যাল’ বোলার আছে, তাদের কাছ থেকে রান বের করাটা কঠিন হবে। মানসিকভাবে নির্ভার থাকলে, শুরুটা ভালো করতে পারলে, সব ভালো হবে।’
শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড উপল থারাঙ্গাকে অধিনায়ক করে দল ঘোষণা করেছে। টেস্টে এবার চায়নাম্যান বোলার লাকশান সান্দাকান ও পেসার লাহিরু কুমারার বল ভুগিয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। এই দুই বোলারকে নিয়ে নিজে যেমন সতর্ক টাইগার অধিনায়ক, তেমনি দলকেও সাবধান করেছেন। লঙ্কান ওয়ানডে দল নিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘ওরা খুব ভালো একটি দল। ওদের খুব ভালো কিছু বোলার আছে যারা দারুণ কিছু করতে পারে। সান্দাকান আছে। কুমারা প্রথম টেস্টে খেলেছে, তার গতি ১৪৫-এর মতো। ওরা সবাই খুব ভালো বোলার।’  মাশরাফি মনে করেন বাংলাদেশ টেস্ট দলে খেলা বেশির ভাগ ক্রিকেটারই ওয়ানডেতে খেলবেন। তাই লঙ্কান বোলাদের বিপেক্ষ সাদা পোষাকের ব্যাটিং থেকে বের হওয়াটাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে তা কঠিন হবে না বলেও তিনি বিশ্বাস করেন। মাশরাফি বলেন, ‘আমরা টানা পাঁচ টেস্ট খেলার পর ওয়ানডেতে খেলবো। ওয়ানডে দলে বেশির ভাগ খেলোয়াড় টেস্টেও ছিল। আশা করি, কোনো সমস্যা হবে না। প্রস্তুতি ম্যাচে খেলে দ্রুত মানিয়ে নেয়া সম্ভব হবে। টেস্ট খেলে এসে ওয়ানডে খেলা বড় কোনো সমস্যা নয়। মাঠে নিজেদের প্রয়োগ করতে হবে। ওদের বোলারদের বিপক্ষে রান করতে হলে আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে।’
Share on Google Plus

About Nejam Kutubi

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment