এফবিআই কর্মকর্তার বিস্ফোরক মন্তব্য

বাংলাদেশের রাজকোষ চুরি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তদন্তের সঙ্গে যুক্ত এফবিআইয়ের এক কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ থেকে গত বছর ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয় তাতে রয়েছে ‘রাষ্ট্রীয় মদত’ (স্টেট স্পন্সরড)।  তবে কোন রাষ্ট্রের মদত রয়েছে সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। বুধবার তিনি ফিলিপাইনে এ কথা বললেও বিস্তারিত জানাননি। ম্যানিলা থেকে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়, ওই কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের লিগ্যাল অ্যাটাচে। তার নাম ল্যামন্ট সিলার। এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না জানালেও দৃঢ় ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাইবার এই হামলায় জড়িতদের নাম প্রকাশ করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওদিকে গত সপ্তাহে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওয়াশিংটনে কর্মকর্তারা এই চুরির জন্য দায়ী করেছেন উত্তর কোরিয়াকে। বুধবার সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক এক ফোরামে ল্যামন্ট সিলার বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির কথা আমরা সবাই জানি। এটা হলো ব্যাংকিং খাতে রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সাইবার হামলার মাত্র একটি উদাহরণ। গত সপ্তাহে এ নিয়ে তদন্তের সঙ্গে জড়িত এক কর্মকর্তা ওয়াশিংটনে রয়টার্সকে বলেছেন, এফবিআই বিশ্বাস করে এই ব্যাংক চুরির জন্য দায়ী হলো উত্তর কোরিয়া। তবে তিনিও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেন নি। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল রিপোর্টে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটররা বেশ কিছু শক্তিশালী কিছু ঘটনা সামনে আনছেন যাতে সরাসরি এই ব্যাংক চুরির জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করা যাবে। একই সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী চীনাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ গঠন করা হবে। বাংলাদেশের এই ব্যাংক চুরি রাজকোষ চুরি নামে পরিচিতি পেয়েছে। গত বছর এ ঘটনার পর তদন্তে নেমেছে এফবিআই। হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম বা কোড ভেঙে ফেলে। তারা সুইফট কোড ব্যবহার করে নিউ ইয়র্ক ফেড থেকে এ ব্যাংকের প্রায় ১০০ কোটি ডলার সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এভাবে অর্থ স্থানান্তরের বেশির ভাগ আবেদন প্রত্যাখ্যান করে নিউ ইয়র্ক ফেড। তবে এরই মধ্যে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার স্থানান্তর হয় ফিলিপাইনে। দ্রুততার সঙ্গে সেই অর্থ উত্তোলন করা হয়। পরে তা দেশটির ক্যাসিনোর মাধ্যমে অদৃশ্য হয়ে যায়। এ নিয়ে মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এর আগে ফিলিপাইনে ক্যাসিনো মালিক এক চীনা নাগরিক সিনেট তদন্ত দলকে বলেছেন, গত ফেব্রুয়ারিতে চীনা দু’ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি কয়েক লাখ ডলার নিয়েছিলেন। ওই অর্থ চুরি ঢাকা থেকে ম্যানিলায় নেয়ার জন্য দায়ী ওই দুই ব্যক্তি। ফিলিপাইনের তদন্তকারীরা বেশ কিছু ব্যক্তি ও একটি রেমিটেন্স কোম্পানির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ এনেছেন। তবে এসব অভিযোগের কোনোটিই আদালতে দাখিল করা হয়নি। ল্যামন্ট সিলার বলেছেন, ফিলিপাইন সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে এফবিআই। প্রকৃতপক্ষে যারা দায়ী তাদের শাস্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। তাই এফবিআইয়ের কাজ শেষ হয়ে যায়নি। আমরা এসব অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনার জন্য কাজ করছি।
Share on Google Plus

About বাংলা খবর

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment