শীর্ষ দুই পদে যোগ্য প্রার্থীর সংকট

এক যুগেরও বেশি সময় পর সম্মেলন হতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন মহিলা লীগের। দুই শীর্ষ পদে স্থান পেতে ইতিমধ্যে তদবির-লবিং শুরু করেছেন আগ্রহী অনেক নেত্রী। ধরনা দিচ্ছেন প্রভাবশালী নেতাদের বাড়ি আর অফিসেও। চেষ্টা করছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুনজরে আসার। কিন্তু যোগ্য প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছে না হাইকমান্ড। অন্য সহযোগী সংগঠনের মতো মহিলা লীগের শীর্ষ নেতৃত্বও আসবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার পছন্দেই। ইতিমধ্যে তিনি প্রার্থীদের বায়োডাটা সংগ্রহ করা শুরু করেছেন। আগ্রহীদের সম্পর্কে খোঁজ-খবরও নেয়া হচ্ছে। কিন্তু যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে খুব কমই। আবার যারা যোগ্য তাদের অনেকেরই রয়েছে তীব্র নেতিবাচক দিক। এদিকে যারাই প্রার্থী হতে আগ্রহী তাদের কেউই সরাসরি নিজেকে প্রার্থী ঘোষণা করছেন না। বলছেন, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব দিলে পালন করবেন।আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা যুগান্তরকে বলেন, সম্মেলনের প্রস্তুতি পুরোদমে এগিয়ে চলছে। অনেক প্রস্তুতি কমিটি গঠিত হয়েছে। আমরা যোগ্য, ত্যাগী, শিক্ষিত এবং মার্জিত নেতৃত্বই বেছে নেব। এ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে বলে জানান তিনি। ১৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের চারটি সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। আগামী ৪ মার্চ মহিলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মাধ্যমে তা শুরু হবে।
১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে স্বতন্ত্র সংগঠন হিসেবে রাজপথে মহিলা লীগের উপস্থিতি কম। আলাদা একটি সংগঠন হিসেবেও মহিলা লীগ অনেক দুর্বল। যদিও আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মসূচিতে মহিলা লীগের নেতাকর্মীদের নিয়মিতই দেখা যায়। আসন্ন সম্মেলনে মহিলা লীগের সভাপতি পদে এখন পর্যন্ত আগ্রহী তিনজনের নাম পাওয়া যাচ্ছে। তারা হলেন- বর্তমান সিনিয়র সহসভাপতি সাফিয়া খানম, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পিনু খান এবং মোহাম্মদপুরের সাবেক এমপি হাজী মকবুলের স্ত্রী মুনা হোসেন। বর্তমান সভাপতি আশরাফুন্নেছা মোশাররফ বয়োবৃদ্ধ হওয়ার কারণে এবার প্রার্থী নন। আর সাধারণ সম্পাদক ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা ২০১২ সালের সম্মেলনে আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। সেই থেকে তার স্থলে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন পিনু খান। সাফিয়া খানম মহিলা লীগ প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই সংগঠনে আছেন। ত্যাগী ও নিবেদিত হিসেবে দলে খ্যাতি আছে। বঙ্গবন্ধুর সময়ে ঢাকায় একটি থানা আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদক হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন। শুরু থেকেই মহিলা লীগের রাজনীতি করছেন। কিন্তু তিনি স্বশিক্ষিত। এ ছাড়া তার ব্যক্তি জীবনের একটি ঘটনাকে পুঁজি করে তার বিরোধীরা স্ক্যান্ডাল ছড়াচ্ছেন। আরেক সভাপতি প্রার্থী পিনু খান আছেন বেশ বেকায়দায়। খুনের অভিযোগে তার ছেলে বখতিয়ার আলম রনির বিচার চলছে। রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে গভীর রাতে মাতাল অবস্থায় একজন রিকশাচালক ও আরেকজন সিএনজিচালককে গুলি করে হত্যার অভিযোগ ওঠে তার ছেলের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া সংরক্ষিত আসনের এমপি হিসেবে ঢাকা জেলার একটি থানায় নামমাত্র কাজ দেখিয়ে ভুয়া বিল তুলে নেয়ার অভিযোগেও সমালোচিত হন তিনি। অপরজন মুনা হোসেন। তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা হাজী মকবুল হোসেনের স্ত্রী। আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ আমলের সরকারের সময় দাপুটে নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন মকবুল। ঢাকার বিত্তবান পরিবার। তার স্ত্রী মহিলা লীগের সভাপতি পদের দাবিদার হলেও রাজপথে তার উপিস্থিতি খুবই নগণ্য। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শোনা যাচ্ছে সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা খাতুন কৃক, ইয়াসমিন হোসেন, প্রচার সম্পাদক শিরিন রুখসানা এবং ধানমণ্ডি মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রাজিয়া মোস্তফার নাম। বদরুন্নেছা কলেজে ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে হাতেখড়ি কৃকের। মিরপুরের একটি ওয়ার্ডের কমিশনার। ফরিদপুরের মধুখালীর মেয়ে হলেও শ্বশুরবাড়ি টুঙ্গিপাড়া হওয়ায় তিনি বাড়তি সুবিধা পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে মহিলা লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর মহিলা লীগের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজপথের উপস্থিতি, বাগ্মিতা তার অন্যতম শক্তিশালী দিক। আকর্ষণীয় চেহারার এই মহিলা লীগ নেত্রীর ব্যক্তিজীবন নিয়ে নানা কথা ছড়াচ্ছেন এ পদের অন্য আগ্রহীরা। সাধারণ সম্পাদক পদে আগ্রহী আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসমিন হোসেন। ১৯৯২ সালের সম্মেলনে মহিলা লীগের সদস্য পদ পান।
২১ আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় আহত হন। সংগঠনের সঙ্গে অনেক দিন ধরে জড়িত থাকলেও নজরকাড়া কোনো পারফরম্যান্স নেই তার। প্রচার সম্পাদক শিরিন রুখসানাও এবার সম্পাদক হতে চান। বাংলা কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী। ইউনিট-ওয়ার্ড পর্যায় তথা তৃণমূল থেকে উঠে আসা মহিলা লীগ নেত্রী তিনি। ছিলেন ঢাকার নির্বাচিত কমিশনার। তার বাবা আবদুল লতিফ ছিলেন কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। সাধারণ সম্পাদক পদের আরেক প্রার্থী রাজিয়া মোস্তফা ধানমণ্ডি মহিলা লীগের সভাপতি। শেখ রাসেল মেমোরিয়াল সমাজকল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা। মহিলা লীগ ছাড়াও দলের অনেক কর্মসূচিতে তার উপস্থিতি লক্ষণীয়। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। ভালো সংগঠক হিসেবে নামও কুড়িয়েছেন। দলেও পরিচিত মুখ। এখন পর্যন্ত বড় কোনো দায়িত্ব পালন না করলেও শীর্ষ দুই পদের যে কোনো একটিতে আসতে চান তিনি। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহিদা তারেক দীপ্তিও সাধারণ সম্পাদক পদ চান। কিন্তু ইদানীং দলীয় কর্মসূচি বা দলীয় কার্যালয় কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না তাকে। তা ছাড়া তার শিক্ষার দৌড়ও কম বলে জানা যায়। মহিলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কমিটিও হয়েছে ১৩ বছর আগে। ২০০৩ সালের ১২ জুলাই কাউন্সিলে আশরাফুন্নেছা মোশাররফ সভাপতি ও ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
Share on Google Plus

About Sadia Afroza

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment