সার্চ কমিটিকে নামের তালিকা প্রকাশের আহ্বান বিএনপির

দলীয় মতাদর্শের বাইরে গিয়ে নিরপেক্ষ লোকদের দিয়ে সরকার তালিকা তৈরি করবেন কিনা তা নিয়ে জনগণ যথেষ্ট শঙ্কিত বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। সেইসাথে নির্বাচন কমিশনের জন্য সৎ, দক্ষ, যোগ্য ও নিরপেক্ষ লোকদের নামের তালিকা করে জাতির সামনে প্রকাশ করার আহবান জানিয়েছে দলটি। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই আহ্বান জানান। আজ সোমবার সকালে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইসি গঠনে অনুসন্ধান কমিটি নামের তালিকা প্রস্তুত করে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দিবে। ইতোমধ্যে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে নাম নিয়েছেন। দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে তারা দুই দফা বৈঠকও করেছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ সকলের দাবি-নিরপেক্ষ, সৎ, যোগ্য ও দক্ষ লোকদের নামের তালিকা করে অনুসন্ধান কমিটি তা রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করবেন এবং নামের তালিকাটি জাতির সামনে প্রকাশ করবেন।
বিশিষ্ট নাগরিকরাও বৈঠকে একই দাবি করেছেন বলে জানা গেছে। যদিও যেভাবে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোভাবাপন্ন লোকদের দিয়ে অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে তাতে তারা দলীয় মতাদর্শের বাইরে গিয়ে নিরপেক্ষ লোকদের দিয়ে তালিকা তৈরি করবেন কিনা তা নিয়ে জনগণ যথেষ্ট শংকিত। এছাড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন-ইসি গঠনে অনুসন্ধান কমিটি রাষ্ট্রপতির কাছে যে তালিকা জমা দিবেন তা জাতির সামনে প্রকাশের প্রয়োজন নেই। আসলে সরকার নিরপেক্ষ ইসি গঠনের পক্ষে কি না তা ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যে যথেষ্ট সন্দেহ দানা বাঁধছে। রিজভী বলেন, বিএনপিসহ দেশবাসীর প্রত্যাশা-অনুসন্ধান কমিটি দলীয় সঙ্কীর্ণতার উর্ধ্বে ওঠে শাণিত বিবেক দিয়ে কাজ করবেন, যাতে জাতীয় স্বার্থই প্রাধান্য পায়। গণতন্ত্রের অন্যতম উপাদান নির্বাচন, সেই নির্বাচন যাতে কলুষমুক্ত করা যায় সেই লক্ষ্যেই শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের প্রয়োজন। এ জাতির প্রতি অনুসন্ধান কমিটিরও যথেষ্ট দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা রয়েছে। জাতি প্রত্যাশা করে দলনিরপেক্ষ, সাহসী, দক্ষ ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নাম প্রস্তাব করবে অনুসন্ধান কমিটি। যাতে প্রভাবমুক্ত, যেকোনো চাপকে অগ্রাহ্য করতে পারে এধরনের শক্তিশালী, ঋজু, মেরুদন্ডসম্পন্ন নির্বাচন কমিশন গঠন সহায়ক হয়। আর এটি বাস্তবায়িত হলে বর্তমান সঙ্কটময় রাজনীতি কিছুটা হলেও আশার আলো দেখতে পাবে। জনগণের ইচ্ছাকে পদদলিত করে তারা এমন কোনো কাজ করবেন না যাতে দেশবাসী তাদের প্রতি আস্থাহীন হন। একই সঙ্গে তাদের প্রস্তাবিত নামগুলো প্রকাশ করতে হবে। তাহলে বোঝা যাবে অনুসন্ধান কমিটি ক্ষমতাসীনদের নির্দেশে কাজ করছে, নাকি নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে। বিএনপির এই নেতা বলেন,
আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির পক্ষ থেকে অনুসন্ধান কমিটির নিকট আহবান জানাচ্ছি যে, শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনে তাঁরা সৎ, দক্ষ, যোগ্য ও নিরপেক্ষ লোকদের নামের তালিকা করে জাতির সামনে প্রকাশ করুন। তিনি বলেন, বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার একদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিরোধী দলের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে চরম নিপীড়ণ করে যাচ্ছে। সরকার বিশেষ করে নি¤œ আদালতকে কব্জা করে বিএনপি চেয়ারপারসনকে বিচারিক হয়রানি করছে। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই একবার অথবা দুইবার তাকে আদালতে হাজির থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। রিজভী আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের একজন মন্ত্রী বলেছেন, বেগম জিয়ার মামলাগুলো এখন বিচারাধীন, সেগুলো গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের। আমরা বলতে চাই গত তত্ত্ববধায়ক সরকার তো ছিল বর্তমান ক্ষমতাসীনদেরই আন্দোলনের ফসল। তাদের আন্দেলনের ফসল এখন ক্ষমতাসীনরা যেহেতু গোলায় ভরে রেখেছে, সুতরাং আদালতের কাঁধে বন্দুক রেখে জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় বিচারিক আগ্রাসন চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিএনপি চেয়ারপার্সনের পাশাপাশি বর্তমান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করেছিল। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সেসময়ের সকল মামলা ক্ষমতাসীন হওয়ার পর হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। অর্থাৎ ক্ষমতার জোরে তিনি মামলাগুলো প্রত্যাহার করিয়ে নেন। এতে প্রমানিত হয়-ক্ষমতায় থাকলে নিজেরটা প্রত্যাহার করা যায়, আর অন্যকে বিচারিক প্রক্রিয়ার নামে হয়রানি করা যায়।
Share on Google Plus

About Sadia Afroza

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment