কেএম নুরুল হুদা সিইসি

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক সচিব কে এম নুরুল হুদা। তিনি ১৯৭৩ ব্যাচের কর্মকর্তা। কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব তালুকদার, সাবেক সচিব মো. রফিকুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী। সার্চ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট এই পাঁচজনকে দিয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করলেন। গত রাত সাড়ে নয়টায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয় গণমাধ্যমকে অবহিত করেন। এ সময় তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর দেয়া নাম থেকেই পাঁচজনকে নেয়া হয়েছে। দলগুলো নাম দিলেও তারা প্রত্যেকে নিরপেক্ষ হওয়ায় সার্চ কমিটি নাম প্রস্তাব করেছে। সার্চ কমিটি মোট ১০ জনের নাম প্রস্তাব করেছিল। এ ১০ জন থেকে প্রেসিডেন্ট ৫ জনকে নিয়ে ইসি গঠন করেছেন। সার্চ কমিটির প্রস্তাবে সিইসি হিসেবে বিকল্প ছিল সাবেক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব আলী ইমাম মজুমদারের নাম। কমিশনার পদে বিকল্প হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জারিনা রহমান খান, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ, পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক সদস্য আবদুল মান্নান এবং জানিপপ চেয়ারম্যান ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর নাম ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের দেয়া তালিকা থেকে কবিতা খানম ও বিএনপি’র দেয়া তালিকা থেকে মাহবুব তালুকদারকে নেয়া হয়েছে।
সিইসি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া নুরুল হুদা ২০০৬ সালে অবসরে যান। মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হুদার বাড়ি পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার নওমালা গ্রামে। তার পিতা আবদুর রশিদ খান। তিন ভাই আট বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। সর্বশেষ সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব পদ থেকে তিনি অবসরে যান। এর আগে তিনি ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়েও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে গতকাল বিকালে সুপ্রিম কোর্টের জাজেজ লাউঞ্জে সার্চ কমিটির বৈঠকে ১০ জনের নাম চূড়ান্ত করা হয়। পরে কমিটির সদস্যরা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বঙ্গভবনে যান। তারা প্রেসিডেন্টের কাছে নতুন নির্বাচন কমিশনের জন্য ১০ জনের নামের তালিকা তুলে দেন। জাজেস লাউঞ্জে সার্চ কমিটির বৈঠকের পর অতিরিক্ত সচিব আব্দুল ওয়াদুদ সাংবাদিকদের বলেন, প্রেসিডেন্টের কাছে সুপারিশ জমা দেয়ার আগে কারও নাম প্রকাশ করা হবে না। অনুসন্ধান কমিটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই প্রস্তাবিত নাম ও প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে। রাজনৈতিক দলগুলো যে নাম দিয়েছিল, তার মধ্য থেকেই নাম থাকবে বলে মনে হচ্ছে। বঙ্গভবনের  বৈঠকের পর প্রেসিডেন্টের প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জন্য দুইজন এবং চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য আটজনের নাম চূড়ান্ত করে সুপারিশ জমা দিয়েছে সার্চ কমিটি। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেয়া দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে পাওয়া নামের তালিকা পর্যালোচনা করে দশজনের নাম চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করেছেন তারা। জয়নাল আবেদীন জানান, নতুন নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবে বলে কমিটি আশা প্রকাশ করেছে। আর সার্চ কমিটি নির্ধারিত সময়ে তাদের দায়িত্ব ‘সুন্দরভাবে’ পালন করায় প্রেসিডেন্ট তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে গত ২৫শে জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান করে সার্চ কমিটি গঠন করেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ। কমিটিতে হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক, মহাহিসাব নিরীক্ষক (সিএজি) মাসুদ আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি শিরীণ আখতারকে সদস্য করা হয়। এর আগে ইসি গঠনের বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ ৩১টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রেসিডেন্ট। দায়িত্ব পেয়েই দফায় দফায় বৈঠক করেন সার্চ কমিটির সদস্যরা। গত ২৮শে জানুয়ারি সার্চ কমিটির এক বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেয়া রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ৫টি করে নামের তালিকা চায় সার্চ কমিটি। পরে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলো ১২৫ জনের নামের তালিকা জমা দেয়। পরে সেখান থেকে যাচাই-বাছাই শেষে তা থেকে ২০ জনের তালিকা করা হয়। এছাড়া দেশের বিভিন্ন পেশার স্বনামধন্য ১৬ জন বিশিষ্ট নাগরিকের সঙ্গে মতবিনিময় করে তাদের পরামর্শ শোনেন সার্চ কমিটির সদস্যরা।
>>>মানবজমিন
Share on Google Plus

About Daily Kutubdia

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment