তিন ফরম্যাটের জন্যই প্রস্তুত মোস্তাফিজ

টি ২০ ও ওয়ানডের মতো বড় দৈর্ঘ্যরে ক্রিকেটেও শুরুতে নিজের সামর্থ্যরে প্রমাণ রেখেছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকেই জিতেছিলেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। কিন্তু ইনজুরি প্রবণতার কারণে এখন পর্যন্ত দুটির বেশি টেস্ট খেলা হয়নি কাটার মাস্টারের। সেই আক্ষেপ এবার ঘুচে যেতে পারে। এখন থেকে নিয়মিতই সাদা পোশাকে লাল বল হাতে দেখা যাবে মোস্তাফিজকে।
চোট কাটিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলে শতভাগ ফিট হয়ে ওঠার পাশাপাশি তিনি পুরো ছন্দ ফিরে পেয়েছেন বলেই মনে করছেন নির্বাচকরা। কাল মিরপুরে শ্রীলংকা সফরের জন্য ১৬ সদস্যের টেস্ট দল ঘোষণার সময় প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন জানালেন মোস্তাফিজ এখন তিন ফরম্যাটের জন্যই প্রস্তুত, ‘মোস্তাফিজ আগের চেয়ে যথেষ্ট উন্নতি করেছে। এজন্যই আমরা বিসিএলে ওকে পরপর দুটি ম্যাচ খেলিয়েছি। দুটি ম্যাচে আট দিন খেলার পর ওর অবস্থা কি হয় সেটা দেখাই ছিল উদ্দেশ্যে। প্রথম ম্যাচের চেয়ে পরের ম্যাচের দ্বিতীয় দিন থেকে তার উন্নতি ছিল যথেষ্ট ভালো। বোলিংও অনেক ভালো করেছে। আমার মনে হয়েছে, তিন ফরম্যাট খেলতে মোস্তাফিজের কোনো অসুবিধা হবে না।’ বিসিএলে চার ইনিংসের তিনটিতেই উইকেট নেন ২১ বছর বয়সী এই পেসার। বল করেছেন নিজের স্বাভাবিক গতিতে, চেনা ছন্দে। চোট কাটিয়ে মোস্তাফিজ ফিরলেও শতভাগ ফিট না হওয়ায় শ্রীলংকার বিপক্ষে দুই টেস্টের দলে রাখা হয়নি ইমরুল কায়েসকে। তবে এই বাঁ-হাতি ওপেনারের জন্য দুয়ার বন্ধ হয়ে যায়নি, বরং খেলার সুযোগ আছে দেশের শততম টেস্টে। দুয়ারটা খোলা রেখেছেন নির্বাচকরাই। স্কিল ফিটনেস পুরোপুরি প্রমাণ করতে পারলে দ্বিতীয় টেস্টের আগে শ্রীলংকায় পাঠানো হবে ইমরুলকে। বিসিএলের চলতি আর পরের রাউন্ড ইমরুলের সুযোগ ফিটনেস প্রমাণ করার। এরপর আনুষ্ঠানিক ফিটনেস পরীক্ষাও হবে। প্রধান নির্বাচক জানালেন, পরীক্ষায় উতরে গেলে শুধু টেস্ট নয়, সব দলের জন্যই বিবেচনা করা হবে ইমরুলকে, ‘ইমরুল আমাদের অভিজ্ঞ একজন খেলোয়াড়। দুর্ভাগ্যবশত হায়দরাবাদ টেস্টের আগে ও চোট পেয়েছে।
ফিটনেসের জন্য আমরা ওকে বিসিএলে দুটি রাউন্ড দেখব। ১ মার্চ ওর দ্বিতীয় রাউন্ড শেষ হবে। দুইদিন বিশ্রামের পর ৪ মার্চ ফিটনেস টেস্ট দেবে। পজিশন যদি ভালো থাকে, সে ক্ষেত্রে দ্বিতীয় টেস্টের জন্য তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করব। সে ক্ষেত্রে স্কোয়াড দাঁড়াবে ১৭ জনের। যেহেতু লম্বা সফর। নিউজিল্যান্ডেও আমরা বাড়তি কিছু খেলোয়াড় নিয়ে গিয়েছিলাম। আর ইমরুল তো ওয়ানডে, টি ২০ তেও বিবেচনায় আছে। সুতরাং তাকে যোগ করতে আমাদের কোনো অসুবিধা হবে না।’ এদিকে ভারত সফরে দলে থাকলেও ম্যাচ না খেলেই বাদ পড়েছেন পেসার শফিউল ইসলাম। বিসিএলের চমৎকার পারফরম্যান্সে দলে ফিরেছেন পেসার রুবেল হোসেন। ভারতে খেলার সুযোগ হয়নি লিটন দাসেরও। তবে দ্বিতীয় উইকেটকিপার হিসেবে জায়গা ধরে রেখেছেন তিনি। ইমরুল না থাকায় এবার তাকে বিবেচনা করা হচ্ছে ব্যাকআপ ওপেনার হিসেবও। এ নিয়ে প্রধান নির্বাচকের ব্যাখ্যা, ‘যদি উইকেট কিপিং নিয়ে প্রশ্ন হয় তাহলে সোহান অনেক ভালো উইকেটকিপার। কিন্তু যদি ব্যাটিংয়ের বিষয়টি সামনে আনা হয় সে ক্ষেত্রে এগিয়ে লিটন।
লিটনকে আমরা ভালো ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে নিয়েছি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চোটে পড়ার আগে দ্বিতীয় উইকেটকিপার হিসেবেই দলে ছিল লিটন। ওর কিপিংয়ের ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী।’ মোস্তাফিজ, রুবেল ফিরেছেন। আগে থেকেই দলে আছেন তাসকিন আহমেদ, কামরুল ইসলাম রাব্বি ও শুভশিষ রায় চৌধুরী। মিনহাজুল জানান, সব পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতেই দলে পাঁচ পেসার। ‘শ্রীলংকার গলে ঘাসের উইকেট থাকতে পারে। ওরা স্পোর্টিং উইকেট দিলে হয়তো তিন পেসার নিয়ে খেলতে হতে পারে। এখানে বসে বলা সম্ভব নয় আমরা কোন ধরনের উইকেট পাচ্ছি। আমরা চেষ্টা করেছি সবকিছু বিবেচনা করে দলটা বানাতে। পাঁচজন পেসার নেয়ার একটা যুক্তি আছে। আমাদের দুইদিনের একটা প্রস্তুতি ম্যাচও আছে।’ ২ মার্চ মোরাতুয়ায় শুরু হবে দুইদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ। ৭ মার্চ গলে শুরু হবে প্রথম টেস্ট। সিরিজের দ্বিতীয় ও বাংলাদেশের শততম টেস্ট কলম্বোয় শুরু হবে ১৫ মার্চ।
Share on Google Plus

About Sadia Afroza

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment